কামারখন্দে সরকারী খাদ্য গুদামে ধান দিতে কৃষকের অনীহা

দুলাল হোসেন মন্ডল (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সরকারি খাদ্য গুদামে বোরো ধান দিতে কৃষকদের মধ্যে অনাগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় খোলা বাজার ও সরকারি কর্তৃক নির্ধারিত ধানের দাম কাছাকাছি হওয়ায় কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা। আবার অনেক কৃষক লটারিতে নির্বাচিত হলেও প্রচারণার অভাবে তারা জানেন না তাদের নাম লটারিতে এসেছে। বোরো ধান আবাদ না করলেও সে সমস্ত কৃষকের নাম লটারিতে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েক কৃষক। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, কামারখন্দ উপজেলায় সরকারি ভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয় গত ১৪মে এবং গত ৪জুন ১১ হাজার ৩শ’ ৩৯ জন কৃষকের মধ্যে থেকে ১ হাজার ২৫০ জন কৃষককে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়। লটারিতে নির্বাচিত প্রতিজন কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা দরে ১ হাজার ২৫০ জন কৃষকের কাছ থেকে উপজেলায় বোরো মৌসুমে ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। কিন্তু ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনের প্রায় দুই মাস হলেও ১ হাজার ২৫০ জন কৃষকের মধ্যে সরকারি গুদামে ধান দিয়েছেন মাত্র ২০ জন কৃষক। লটারিতে নির্বাচিত উপজেলার নান্দিনামধু গ্রামের কৃষক রওশন আলী জানান, সরকারি গুদামে ধান দেয়ার জন্য লটারিতে নির্বাচিত হয়েছি সেটাই তো আমি জানি না। এখন জানলাম সরকারি গুদামে ধান দেব। লটারিতে নির্বাচিত একই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, আমি বেশি দামের আশায় ধান শুকিয়ে ঘরে মজুদ করে রেখেছি। আগামীতে দাম বাড়লে পরে বিক্রি করবো। একই গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষক জানান, লটারিতে যাদের নাম এসেছে এদের মধ্যে অনেকেরই এক ডিসিমাল জমিও নেই তাছাড়া এরা বোরো মৌসুমে ধান আবাদ করে নাই। লটারিতে নির্বাচিত উপজেলার চৌদুয়ার গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা দরে সরকারি গুদামে ধান দিয়ে আমাদের খুব একটা পোষায় না। কারণ খোলা বাজারেই ধানের দাম সরকারি দামের খুব কাছাকাছি তাই আমরা ধান বাহিরেই বিক্রি করেছি। লটারিতে নির্বাচিত নান্দিনা কামালিয়া গ্রামের কৃষক হযরত আলী জানান, আমরা ধান আবাদ করি কিছুটা লাভের আশায়। সরকার ধানের যে দাম দিচ্ছে একই দামে আমরা খোলা বাজারেই বিক্রি করতে পারছি। গাড়ী ভাড়া করে সরকারি গুদামে নিয়ে ধান দেয়ার চেয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করাই ভাল। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ডালিম কাজী জানান, সরকার কৃষককে যে দাম দিচ্ছে তার চেয়ে ভাল দামে তারা খোলা বাজারেই বিক্রি করছেন যে কারণে কৃষক ধান সরকারি গুদামে দিচ্ছেন না। প্রচারণার অভাবের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রত্যেক ইউনিয়নে লটারিতে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা দিয়ে দিয়েছি। প্রয়োজনে আমরা মাইকিং করে কৃষকদের জানাবো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দাম আর খোলা বাজারে ধানের দাম কাছাকাছি হওয়ায় কৃষক ধান সরকারি গুদামে দিচ্ছে না। কৃষকের নিজস্ব জমি না থাকলেও কৃষক যদি কারো জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে আর সেই কৃষক যদি লটারিতে নির্বাচিত হন তাহলে সে কৃষক সরকারি গুদামে ধান দিতে পারবেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাজারে ধানের মূল্য ও সরকার কর্তৃক ধানের মূল্য কাছাকাছি হওয়ায় হয়তোবা কৃষক ধান সরকারি গুদামে দিচ্ছেন না। ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টনের মধ্যে আমরা ২০ মেট্রিক ধান সংগ্রহ করতে পেরেছি। এ বিষয়টি সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা পরবর্তীতে যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *