জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি কর্মীদের পুলিশের লাঠিপেটা

জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। শনিবার সকাল ১০টা থেকে দলটির এই সমাবেশ চলছিলো।

পরে বেলা ১২টার দিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই পুলিশ এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের সড়ক থেকে তুলে দেয়।

এসময় বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ লাঠিপেটা করলে বিএনপি কর্মীরাও এর জবাবে ইট ছোড়ে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ( ১১ ফেব্রুয়ারি) সংবিধান লঙ্ঘন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের কারণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে দেয়া ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল।

এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অপচেষ্টা আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর মধ্যে আজ শনিবার ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর এবং রোববার সব জেলা সদরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে সমাবেশ শুরু করে দলটি। সমাবেশ যখন শেষ পর্যায়ে, তখন কদম ফোয়ার দিক থেকে পুলিশ একযোগে সমাবেশের দিকে এগোতে থাকে।

এরপর ফুটপাতের উপর তৈরি সমাবেশ মঞ্চের সামনে এসে বক্তৃতা বন্ধ করতে বলেই লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ সদস্যরা। বিএনপি নেতা-কর্মীরা তখন তোপখানা রোড, জাতীয় প্রেসক্লাবের ফটক ডিঙিয়ে পালাতে থাকে। পাশাপাশি পুলিশদের লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলে বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে তারা বেরিয়ে আসেন।

ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সভাপতি যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে, দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার এবং উত্তরের আবদুল আলীম নকীর পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ডজন খানেক নেতা বক্তব্য রা্খেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *