ঠাকুরগাঁওয়ের  বালিয়াডাঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

মজিবর রহমান শেখঃ

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান টিআর-কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ঠাকুরগাঁও জেলার   বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় দুর্যোগসহনীয় ঘর নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হলেন বালিয়াডাঙ্গী  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল আলম সুমন । তিনি অধিকর্তা হিসেবে তার পছন্দের লোক দিয়ে ঘরগুলো যেনতেন ভাবে নির্মাণ করছেন বলে জানা গেছে। কাজের মান নিয়ে উপকারভোগীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন । বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানায়, দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায়  বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে ৩৬টি দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি বাসগৃহ নির্মাণ কাজের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা। জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী মাটির নীচ হতে ৩ ইঞ্চি সলিং, ৩ ইঞ্চি কনক্রিট, ১৫ ইঞ্চি-৬ইঞ্চি উচ্চতা গাথনি দিয়ে ভিটি করা, ১৪টি ব্রিফ পিলার, ঘরের চালে মানসম্মত কাঠ ব্যবহার করা, উন্নতমানের ঢেউ টিন ০.৪৬মি.লি., ১ নম্বর ইট, উন্নতমানের বালি, ভালো ব্রান্ডের সিমেন্ট, দরজা, জানালা ও বারান্দায় উন্নতমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার কথা। সরেজমিনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নির্দেশিকা অনুযায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়নি। এতে নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে এবং নির্মাণ সামগ্রীর পরিমাপও ঠিক নেই । বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়িয়া লোহাগাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী আলেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামীর নামে বালিয়াডাঙ্গী  উপজেলা থেকে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ পেয়েছি। নিয়মানুযায়ী মাটির নীচ থেকে ৩ ইঞ্চি সলিং, ৩ ইঞ্চি কনক্রিট, ১৫ ইঞ্চি-৬ইঞ্চি উচ্চতা গাথনি দিয়ে ভিটি করার কথা কিন্তু মাটি না খুড়ে আলগা করে ১০ ইঞ্চি গাঁথুনি দিয়ে সলিং ছাড়াই ভিটি করা হয়েছে, ঘরের চালে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার, নিম্নমানের সিমেন্ট ও বালি ব্যবহার করা হয়ছে। গৃহ নির্মাণ কাজে নিম্ন মানের উপকরণ ব্যবহার করায় বছর যেতে না যেতেই পিলার, দেয়াল ভেঙে পড়ছে। একটু ঝড় হলেই ভেঙে পড়বে, নিজের টাকা খরচ করে আবার কাজ করতে হয়েছে। এই ঘরে থাকাটাই ঝুঁকিপূর্ণ।  প্রতিবেশী খসিরুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩ লাখ টাকার ঘর তৈরিতে ১ লাখ পকেটস্থ করেছে সংশ্লিষ্টরা। কাজের মান সর্ম্পকে জানতে চাইলে এক ঠিকারদার বলেন, টিএনও সাহেবের ঘর, টিএনও সাহেব বুঝবেন। যেভাবে করতে বলেছে আমরা সেই ভাবে করছি। রায়মহল গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুলের মা বলেন, সরকার ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে কিন্তু কাজের মান ভালো হয়নি। আবার ঘর নির্মাণের জন্য ইট, বালি ও অন্যান্য উপকরণ আনা-নেয়ার খরচ ও মিস্ত্রিদের থাকা খাওয়ার খরচ আমাদের গরু বিক্রি করে দিতে হয়েছে। ফাঁসিদহ গ্রামের জসিনা বেগম বলেন, বছর যেতে না যেতেই ঘরের দেয়ালে ফাঁটল ধরেছে। যখন তখন ভেঙে পড়তে পারে। আমজানখোর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আকালু চেয়ারম্যান বলেন, আমার ইউনিয়নে ঘর নির্মাণ হয়েছে। এর কত টাকা বাজেট? কি ভাবে করা হবে? এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না । ইউএনও সাহেব স্বাক্ষর চেয়েছে, দিয়েছি। গৃহনির্মাণ কাজে নিয়োজিত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি চাঁন প্রসাদ বলেন, আমি গৃহ নির্মাণের কাজ করেছি। জেনে শুনে বলবেন। না জেনে বলবেন না। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ কিছু বলেনি। ঢালাও ভাবে তো বলা ঠিক না। আপনি কোথা থেকে জানলেন বুঝতে পারলাম না। এটার তো সুযোগ নেই। কোনো বাজে জিনিস আপনি গ্রহণ করবেন না। তাদের নিদের্শনা দেয়া ছিল যদি নিম্নমানের হয় তাহলে গ্রহণ করবেন না। ঐ ভাবেই তাদের সাথে চুক্তি হয়। তিনি আরো বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে লোকজনকে বলেন কোনটা সমস্যা। সে গুলো ঠিক করে দিবে। আমি তো এ রকম দেখি নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *