ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক মোহাম্মদ ইউসুফ কালু আর নেই

ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক মোহাম্মদ ইউসুফ কালু আর নেই। তিনি সোমবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।উসুফ কালুর ছেলে ওবায়দুর রহমান সোহাগ তার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

সর্বস্ত‌রের মানুষ শ্রদ্ধা নি‌বেদনের জন্য মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এস‌সি‌জিএম বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইউসুফ কালুর মরদেহ রাখা হবে। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হবে। এরপ‌র জানাজা শেষে তার গ্রা‌মের বা‌ড়ি ঝালকা‌ঠি জেলার রাজাপুর উপ‌জেলার কানুদাসকা‌ঠি গ্রা‌মের মিঞা বা‌ড়ি‌তে তা‌কে দাফন করা হবে।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, বরিশাল সদর আসনের এমপি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দারসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, গ্রামে পাঠশালা শেষ করে ১৯৪৮ সালে বরিশাল বিএম স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নত অবস্থায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন কালু। প্রগ্রেসিভ ছাত্রফ্রন্টের নেতা এমায়দুলের নেতৃত্বে মিছিলে যোগ দিয়ে প্রথম দিনই পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হন। এরপর মেট্রিকুলেশন পাস করে ১৯৫১ সালে বিএম কলেজে এইচএসসিতে (কমার্সে) ভর্তি হন। তখন ভাষা সংগ্রামে সম্পৃক্ততা আরও বেড়ে যায়।

তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি ও বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ গোলাম কিবরিয়াকে আহ্বায়ক করে বিএম কলেজে গঠন করা হয় ২৫ সদস্যের ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ওই কমিটিতে কালুর পদ ছিল। তবে কিছুদিন পরে আন্দোলনে দেশ উত্তাল হয়ে উঠলে ৮১ সদস্য বিশিষ্ট বৃহত্তর বরিশাল ভাষা সংগ্রাম পরিষদে যুক্ত করা হয় তাকে।

ভাষা সংগ্রাম চলাকালীন ১৯৫৪ সালে নির্বাচনের আগে বরিশালে প্রচারণায় আসেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী খান আব্দুল কাইউম। তখন কালু ও তার সহযোদ্ধারা রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও স্বৈরাচারী সরকার নিপাত যাওয়ার দাবিতে কালো পতাকা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এই সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে শহরের কাউনিয়ার নিবাসী মালেক মারা য়ান। এই ঘটনায় ইউসুফ কালুসহ ৩৫ জন গ্রেপ্তার হলে ২২ দিন পর জামিনে মুক্ত হন।

শিক্ষা জীবনের প্রথমে ছাত্র ইউনিয়ন করেছেন কালু। ৫২ সালে যোগ দেন ছাত্রলীগে। পরে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে। তিনি স্বৈরাচার বিরোধী ও প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

ইউসুফ কালু ১৯৩১ সালের ১৭ জানুয়ারি ঝালকাঠীর রাজাপুরের কানুদাসকাঠী মিয়াবাড়িতে জন্মগ্রহন করেন। বাবা ওবায়দুল করিম রাজা মিয়া ও মা ফাতেমা খাতুন। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। বাবা রাজা মিয়া ১৯২০ সালের দিকে কলকাতা পোর্ট কমিশনে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে দেন এবং রাজা রায় বিহারীর জমিদারির নায়েব নিযুক্ত হন। আমুয়া, ভান্ডারিয়া, কানুদাসকাঠী অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *