সড়ক দুঘর্টনা বন্ধে আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে

নিউজ ডেস্কঃ

২ নভেম্বর মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত অথৈর মনিষা বর্মন হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভায় আলোচকবৃন্দ বলেন, সড়ক দুঘর্টনা বন্ধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করতে চাইলেও তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। তাঁরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে সরকারকে জিম্মি করে আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন করতে চাপ সৃষ্টি করছে। আর শ্রমিকদের এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে সরকারী দলে থাকা নেতারাই। ফলে তবে নতুন আইন কার্যকর করার বিষয়টি শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে।

তারা বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি আগের তুলনায় কঠোর, কিন্তু সেই আইন মানাতে যদি বাধ্য করা না যায়, তবে শুধু আইনের কঠোরতায় ফল মিলবে কি? দরকার আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘কঠোর’ হওয়া, সেটাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ। নতুন আইনের বিষয়গুলো প্রচার ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই সাফল্য আসবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত অথৈর মনিষা বর্মন হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভায় সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত রাজনীতিক, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

সভায় প্রয়াত অথৈর মনিষা বর্মনের বাবা মনির কুমার বর্মন পরিবারের পক্ষ থেকে কণ্যা হত্যার বিচারের লক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সড়কমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহায়তা প্রত্যাশা করেন।

বাংলাদেশ ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রয়াত অথৈর মনিষা বর্মনের বাবা মনির কুমার বর্মন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, শহীদ কাজী আরিফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মাসুদ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মশিউর রহমান ফাইজুল, ডিইউজের নেতা রাজেন্দ্র চন্দ্র মন্টু, এডভোকেট রনঞ্জিত বর্মন, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. রোকন উদ্দিন পাঠান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সামুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক জয়ন্ত আচার্য, সেলিম আহমেদ, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান খোকা, কবি মির্জা শেলী প্রমুখ।

সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, বাস চালকের খামখেয়ালিপনা, প্রতিযোগিতাপূর্ণ অসুস্থ মনোভাব এবং নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানোর কারণেই অধিকাংশ সড়ক দুঘর্টনা ঘটছে। বাসের চালক কন্ডাক্টর হেলপারদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে আর কতো মায়ের বুক খালি হবে, আর কতজনের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হবে সেটাই আমাদের বড় প্রশ্ন। রাস্তার পাশে বাস-ট্রাক উঠিয়ে নিবির্চারে মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে। বন্ধ কতে হবে দুই বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। একের পর এক ঘটনা ঘটছে অথচ সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ দায় স্বীকার করছে না, এটাই জাতির দুভার্গ্য।

তিনি বলেন, দেশে যাতায়াতজনিত দুঘর্টনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে দুঘর্টনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে সড়ক দুঘর্টনায় মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে কিছুতেই যেন রক্ষা নেই এ দেশের মানুষের। গত ২ নভেম্বর সোমবার হানিফ ফ্লাইওভারে ঠিকানা পরিবহনের বাস চাপায় নিহত হয় অথৈর। এখনও তার ঘাতককে গ্রেফতার করে নাই পুলিশ। যা অত্যান্ত দু:খজনক।

তিনি আরো বলেন, আমরা চাই, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে যে-কোনো ধরনের দুঘর্টনা এড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে এবং চালকদের দক্ষতা বাড়াতে কাযর্করী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত ও ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। সারা বছর যেন পথের যাত্রীরা নিরাপদ থাকেন, এ জন্য প্রকৃত অথের্ই সরকার তথা সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের কাযর্কর উদ্যোগ নেয়ার বিকল্প থাকা উচিত নয়। সড়ক দুঘর্টনায় মৃত্যুর হার কমাতে হলে দোষীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকেও সড়কপথে ভ্রমণ ও রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ ও শিক্ষিত চালকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পরিকল্পিত ও সফল উদ্যোগই কেবল পারে মতো এমন মমাির্ন্তক মৃত্যু রোধ করতে। দুঘর্টনা নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য নয়, জাগ্রত হোক আমাদের বিবেকবোধ ও মনুষ্যত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *