দলের দুঃসময় থেকে রাজপথের নানা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও সুসময়ে দলীয় স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আশুলিয়া এলাকার বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মী শরিফ সিকদার ।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপির কঠিন সময়ে মামলা-হামলা, ধরপাকড় ও নানান নির্যাতনের মধ্যেও শরিফ সিকদার দলের প্রতি অটল ছিলেন। রাজপথে উপস্থিতি, নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণের জন্য তিনি স্থানীয় পর্যায়ে একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে পরিচিত। বেশির ভাগ সময় তিনি আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবদুল গফুর মিয়ার মিটিং মিছিলে নীর্ভিক সৈনিক হয়ে কাজ করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের ধাপে শরিফকে দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ বা দায়িত্বে রাখা হয়নি। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন তার সহযোদ্ধারা।
তাদের অভিযোগ—“যারা দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন না, তারাই সুসময়ে সুবিধাভোগী হচ্ছেন। অথচ শরিফের মতো ত্যাগী কর্মীরা বারবার উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছেন।”
শরিফ নিজে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, একদিকে দলের দূঃসময় অন্যদিকে সংসারের টানাপোড়ন তবুও দলের প্রতিটি মিছিলে উপস্থিত ছিলাম “দলকে ভালোবাসি বলেই এতো মামলা, হামলা ত্যাগ তিথিক্ষা অপেক্ষা করে রাজপথে ছিলাম,এখনো আছি, ভবিষ্যৎ ও থাকবো ইনশাআল্লাহ । তবে বারবার বঞ্চিত হওয়া কষ্ট দেয়।” আসলে বিএনপির রাজনীতি আমার রক্তে মিশে আছে তাই এত অবহেলা অবমূল্যায়নের পরেও রাজনীতি থেকে সরে আসতে পারিনি।এমনও সময় গেছে ফুটপাতে শরবত বিক্রি রাজনৈতিক মামলা চালিয়েছি। আওয়ামী লীগের ক্যাডার দ্বারা হামলার শিকার হয়েছি। বিএনপির রাজনীতির করি বলে শেষমেষ ফুটপাতের দোকানটিও হারাতে হয়েছে। এসব ভাবতেই এখন কষ্ট লাগে। তবে দল থেকে নয় যেসব নেতার কাছে আমি মূল্যহীন তাদের থেকে সরে আসছি, কারন বুঝেছি দেশের মানুষ হয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে হলে সার্থাবাদী আর সুবিধাভোগী নেতাদের সঙ্গ বাদ দিয়ে ত্যাগী নেতাদের পাশে থাকতে হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের এমন অবস্থায় ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যতে সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।













