পটুয়াখালীর বাউফলে ছদ্মবেশি ভূমিদস্যু কেরামত আলী মুন্সির মিথ্যা বানোয়াট সাজানো মামলার রোষানলে পড়েছেন ‘বাউফল সাংবাদিক ক্লাব’ এর সভাপতি শেখ মোঃ জাফরান আল হারুন ওরফে এম জাফরান হারুন ও শ্বশুর মোঃ ছালেক রারী সহ সুমন্দি মোঃ সোহেল রারী।
অনুসন্ধানে জানা যায়- দিয়ারা কচুয়া মৌজার জেএল নং ৭৪/১৪০, এসএ খতিয়ান নং ৫৫৮, দাগ নং ২০৮৫, জমির পরিমাণ ১ একর ৪৭ শতাংশ, দাতা ইদ্রিস আহম্মদ গত ১৯৮৫ সনে গ্রহীতা তার আত্মীয় মোঃ কাঞ্চন আলী জোমাদ্দারের কাছে বিক্রি করে দেন। যাহার দলিল নং ৬১২৬, রেজিস্ট্রারের তারিখ ২৪/০৬/১৯৮৫। দিয়ারা কচুয়া মৌজায় আনুমানিক ৯০ দশকে বিএস জরিপ হয়। সে সময় কবলামূলে মালিক গ্রহীতা মোঃ কাঞ্চন আলী জোমাদ্দার অসুস্থতা জনিত কারনে বিএস জরিপে দলিল দেখিয়ে নিজের নামে রেকর্ড না করায় মূল মালিক দাতা ইদ্রিস আহম্মদের নামে ১ একর ০২ শতাংশ জমি বিএস খাতিয়ান নং ৫৫০, হাল দাগ নং ১৫২৮, জেএল নং ১৪০/৭৪, দিয়ারা কচুয়া মৌজায় রেকর্ড হয় এবং ৪৫ শতাংশ জমি সরকারি খাস খতিয়ানে চলে যায়।
এদিকে অসুস্থতা জনিত কারনে চিকিৎসা করাতে দলিলমূলে মালিক গ্রহীতা মোঃ কাঞ্চন আলী জোমাদ্দার গত ২০১৬ সনে এই জমিটা দিয়ারা কচুয়া মৌজার জেএল নং ৭৪/১৪০, এসএ খতিয়ান নং ৫৫৮, দাগ নং ২০৮৫, জমির পরিমাণ ১ একর ৪৭ শতাংশ যাহা বিএস জরিপে রেকর্ড হয়ে বিএস খতিয়ান নং ৫৫০, হাল দাগ নং ১৫২৮, জেএল নং ১৪০/৭৪, জমিটুকু গ্রহীতা মোঃ সোহেল রারী ও মমতাজ বেগমের কাছে বিক্রি করে দেন। যাহার দলিল নং ১১৬৫, রেজিস্ট্রারের তারিখ ১৮/০২/২০১৬। মোঃ কাঞ্চন আলী জোমাদ্দার জমিটা বিক্রি করার ঠিক এক মাস পরে ওই ভূমিদস্যু কেরামত আলী মুন্সি তার বাড়ির একটা পাঞ্জেগানা ছোট মসজিদ ছাহেদ আলী মুন্সি জামে মসজিদ নামে একটি মসজিদের নামে ওই মূল মালিক ইদ্রিস আহম্মদের কাছ থেকে ৭৫ শতাংশ জমি দলিল নেন। যাহার দলিল নং ১৬৬৪ রেজিস্ট্রারের তারিখ ১০/০৩/২০১৬।
এব্যাপারে দাতা ইদ্রিস আহম্মদ বিক্রিত দিয়ারা কচুয়া মৌজার জেএল নং ৭৪/১৪০, এসএ খতিয়ান নং ৫৫৮, দাগ নং ২০৮৫, জমির পরিমাণ ১ একর ৪৭ শতাংশ, যাহা বিএস খতিয়ান নং ৫৫০, হাল দাগ নং ১৫২৮, জেএল নং ১৪০/৭৪, দলিলমূলে মালিক গ্রহীতা মোঃ কাঞ্চন আলী জোমাদ্দার বিক্রিত গ্রহীতা মোঃ সোহেল রারীর বাবা ও মমতাজ বেগমের স্বামী মোঃ ছালেক রারী জানান- ১৯৮৫ সনে দাতা ইদ্রিস আহম্মদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে গ্রহীতা মোঃ কাঞ্চন আলী জোমাদ্দার দলিলমূলে মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছিল। এই জমিটা দলিলমূলে মালিক মোঃ কাঞ্চন আলী জোমাদ্দারের কাছ থেকে আমার ছেলে মোঃ সোহেল রারী ও আমার স্ত্রী মমতাজ বেগমের নামে ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছি। হঠাৎ আমাদের ক্রয় করার দুইতিন মাস পর কেরামত আলী মুন্সি একটা দলিল নিয়ে এসে আমাকে আমার জমিতে যেতে নিষেধ করে। ওইসময় আমার জমিতে পাকা ধান। পরে আমি পাকা ধান কেটে ঘরে উঠালে কেরামত আলী মুন্সি বাধা দিলে একপর্যায় স্থানীয় শালিস বসাই। সেখানে কাগজপত্র দেখে আমার পক্ষে শালিসকারীরা রায় দেন। ঠিক কিছুদিন পরে কোর্টের একটা নোটিশ পাই যে আমাকে ১ নম্বর আসামি দিয়ে এবং যাদের দিয়ে ধান কাটাইছি তাদের ৮ জন সহ মোট ৯ জনকে আসামি করে একটি ধান কাটা কেস করে কেরামত আলী মুন্সি। কোর্টের নোটিশ অনুযায়ী আসামি সবাই কে নিয়ে কোর্টে হাজির হই এবং আমরা সবাই স্থায়ী জামিন চাইলে কোর্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমাদের স্থায়ী জামিন দেন। এরমধ্যে মামলার ২/৩ বছর পার হয়ে গেলে কেরামত আলী মুন্সি একটা শালিস বসান এবং তার মসজিদে ৩০ শতাংশ জমি লিখে দিতে বলেন। আর আমাদেরকে কেরামত আলী মুন্সি জানান তোমরা হাজিরা দেও কোনো সমস্যা নেই আমি কেস উঠিয়ে নিয়ে আসবো। এরপরের বছরে শুনতে পাই আমাদের বিরুদ্ধে সাজা হয়েছে। পরে আমরা আপিল করেছি। এবং মুল মালিক ইদ্রিস আহম্মদের নামে বিএস জরিপে ১ একর ০২ শতাংশ জমি রেকর্ড সহ ৪৫ শতাংশ জমি সরকারি খাস খতিয়ানে চলে যাওয়ায় তা ফেরত পেতে মানে মূল মালিক ইদ্রিস আহম্মদের নামে বিএস জরিপে রেকর্ড হওয়ায় সেই রেকর্ড ভাঙ্গানোর জন্য আমরা দলিলমূলে মালিকের নামে রেকর্ড আনার জন্য দেওয়ানি আদালত করেছি তা চলমান রয়েছে। বর্তমানে দিয়ারা সেটেলমেন্ট অপারেশন জরিপে বিডিএস নামে জরিপ রেকর্ড চলে। তাতে আমরা ভোগদখল পূর্বক সকল পর্যায়ের কাগজপত্র দিয়ে রেকর্ডের চেষ্টা চলমান রয়েছে। আমাদের ভোগদখলীয় জমিতে কেরামত আলী মুন্সি বছরে দুবার বাধা বিপত্তি করে। সেজন্য পুনরায় বারবার শালিস মীমাংসা ডাকলে কেরামত আলী মুন্সি না এসে তার ছেলেপান সহ আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে বিভিন্ন হুমকি ধামকি সহ খুন-জখমের ভয়ভীতি দেখায় এবং আরও বারবার মিথ্যা বানোয়াট সাজানো মামলা দিয়ে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করার হুমকি দিয়ে আসে। পরে থানা পুলিশের আশ্রয় নিয়ে ওই কেরামত আলী মুন্সির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করি। কেরামত আলী মুন্সি দেশের প্রচলিত আইন-কানুন নিয়ম নীতি না মানলে জিডি আকারে মামলা দায়ের করেছি। আমি আমাদের এই জমিটা যেভাবে ভোগদখল পূর্বক চাষি দিয়ে চাষাবাদ করে আসছি সেই ভাবে বলবৎ থাকতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশদানে মর্জি সহ ওই ভূমিদস্যু কেরামত আলী মুন্সি প্রতারক ও ইদ্রিস আহম্মদ প্রতারকের বিচার দাবি করছি। তবে কিভাবে ইদ্রিস আহম্মদের কাছ থেকে কেরামত আলী মুন্সি তার বাড়ির ছাহেদ আলী মুন্সি জামে মসজিদের নামে দলিল এনেছে তার মানে ইদ্রিস আহম্মদের কথোপকথনের একটা ভিডিও রয়েছে।
এদিকে এব্যাপারে প্রতিবেদক কর্তৃক কেরামত আলী মুন্সির কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যাওয়ায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এব্যাপারে মূল মালিক ইদ্রিস আহম্মদ বলেন- আমার দিয়ারা কচুয়া মৌজার জেএল নং ৭৪/১৪০, এসএ খতিয়ান নং ৫৫৮, দাগ নং ২০৮৫, যাহার বিএস খতিয়ান নং ৫৫০, হাল দাগ নং ১৫২৮। যাহার সবটুকু জমি আমি ১৯৮৫ সনে আমার আত্মীয় মোঃ কাঞ্চন আলী জোমাদ্দারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। আর সেই থেকে দলিলমূলে মালিক হয়ে সে ভোগদখল করে আসছে এবং এই জমিটা দলিলমূলে মালিক ওই কাঞ্চন আলী জমাদ্দার অসুস্থতা জনিত কারনে আরেকজনের কাছে বিক্রি করায় তারা দলিলমূলে মালিক হয়ে এখন ভোগদখল করছে। কিন্তু কয়েকবছর আগে কেরামত আলী মুন্সি তার বাড়ির একটা মসজিদের কথা বলে আমার কাছ থেকে একটা দলিল নিয়েছে। তখন আমি অসুস্থ ছিলাম। তবে আমার বিশ্বাস এই জমি আমি কেরামত আলী মুন্সির মসজিদে দেইনি। কারণ এ জমি আমি অনেক বছর পূর্বে বিক্রি করে দিয়েছি। আবার বিএস এ আমার নামে যদি জরিপে রেকর্ড হয় তাহলে সেটা যার কাছে বিক্রি করেছি তার ব্যাপার সে কিভাবে ওই রেকর্ড টা ভেঙে তার দলিলমূলে নিবে! সেখানে কেরামত আলী মুন্সি কে? ও একটা চিটার বাটপার!
স্থানীয়রা জানান- কেরামত আলী মুন্সি একটা টাউটার বাটপার প্রতারক। গায়ে নবিজির সুন্নাতি লম্বা সাদা পাঞ্জাবি আর টুপি পড়ে যেন একজন দরবেশ। কেরামত আলী মুন্সি একটা মামলাবাজ এবং ভূমিদস্যু। ততকালীন যুগে সরকার যখন ভূমিহীনকে খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে তখন ওই কেরামত আলী মুন্সি দালালি করে তার নামে ও তার পরিবারের নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি বন্দোবস্ত নিয়েছে। এখন সেই জমি বেচে আর খায় আর এলাকার বিভিন্ন মানুষের নামে একেরপর এক মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করে। কেরামত আলী মুন্সির অতিষ্ঠে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। বিজ্ঞ আদালত সহ প্রশাসনের উচিত এই কেরামত আলী মুন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। ওর কারণে অনেক পরিবার আজ সর্বশান্ত নিঃস্ব হয়ে গেছে।
এবিষয়ে ‘বাউফল সাংবাদিক ক্লাব’ এর সভাপতি শেখ মোঃ জাফরান আল হারুন বলেন- সোহেল রারী আমার সুমন্দি আর মমতাজ বেগম শাশুড়ী ও মোঃ ছালেক রারী আমার শ্বশুর হয়। জমিটা ক্রয় করার পর থেকেই কেরামত আলী মুন্সির অত্যাচার নির্যাতনের শিকার তারা। আমি সাংবাদিকতা করি। আমি সবসময় বাউফল সদরে থাকি। মামলায় যেসব ঘটনা বা কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট সাজানো। কেরামত আলী মুন্সির বাড়ি কালাইয়ার শৌলা এলাকায়। তার সাথে মনে হয় ৩/৪/৫ মাসে একবারও ঠিকমতো দেখা হয়না। যদিও দেখা হয় তখন আমার মুরুব্বি হিসেবে সালাম কালাম ও আপ্যায়ন করার চেষ্টা করি। তবে কেরামত আলী মুন্সি কর্তৃক একটা ধান কাটা কেসের মিথ্যা মামলায় রায় পাওয়ায় বিজ্ঞ আদালতের পরামর্শক্রমে আসামিদের পক্ষে সাজা ও জরিমানা বাতিল চেয়ে মামলা খারিজের জন্য আপিলে সহযোগিতা করায় হয়তো পরিকল্পিত ভাবে এমন মিথ্যা বানোয়াট সাজানো নেক্কারজনক অভিযোগ এনেছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, পাশাপাশি বিজ্ঞ আদালতের কাছে প্রতারক কেরামত আলী মুন্সি সহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।













