ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার সাংবাদিক এইচ এম শাহীন আলমের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা হয়রানি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৩ই জানুয়ারি ২০২৬ ইং) জাতীয় প্রেসক্লাবের সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক এইচএম শাহিন আলমের পরিবারের সকলেই উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক শাহীন আলমের মা জাহানারা বেগম, সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে শাহীন আলম বাংলাদেশের একজন সু-নাগরিক হিসাবে দেশের স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব ও মহান সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এইচ এম শাহীন আলম একজন পেশাদার সাংবাদিক সে কোনদিন কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিল না কিংবা কোন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে ছবি মিটিং মিছিল বা কোন জনসভায় কখনও যায় নাই। সে সব সময় তার পেশাদার সাংবাদিকতায় দেশ রাষ্ট্র মাটি ও মানুষের স্বার্থে নিরলস ভাবে সৎ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবং সে চাঁদাবাজ মাদক সন্ত্রাস সমাজের দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকায় ছিল জিরো টলারেন্সে। তাই তার উপরে একটি কুচক্রী মহল ছিলেন অসন্তোষ।
তিনি আরোও বলেন,এইচ এম শাহিন আলমকে গত ৫ইং আগস্টে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতনের পরে আখাউড়া থানায় দায়ের হওয়া ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রমোদিত হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলায় কে বা কাহারা তাকে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী কিংবা সমর্থক না হওয়া স্বত্ত্বেও তার নাম জড়িয়ে দেয়। মামলার বাদী নিজে লাভবান হওয়ার জন্য কিংবা অন্যের প্রলোভনে ও কোন বিশেষ ব্যক্তির দ্বারা লাভবান হইয়া এবং উদ্দেশ্য প্রমোদিত সমাজে তাকে ও আমাদের পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করা ও হয়রানী করার উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে,আখাউড়া থানায় ২টি মামলায় আসামী হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করে। এবং আমাদের আখাউড়ায় মামলা বাণিজ্যচক্র এখনো সক্রিয় রয়েছেন,তাই আমরা আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি,উক্ত চক্রটি আবারও আমাদের পরিবারের সদস্যদের এবং আমার ছেলে সাংবাদিক এইচ এম শাহীন আলমকে আরো মামলায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার জন্য পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। মামলা বাণিজ্যর চক্রটি নতুন করে আর কোন মামলা দিতে না পারেন এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পর্যায়ক্রমে মামলার গুলো হলোঃ আখাউড়া থানার মামলা নং-১৫, তারিখ- ১২/১১/২০২৪ইং, আখাউড়া থানার মামলা নং-২৬, তারিখ- ২৬/০৯/২০২৪ইং
এমতাবস্থায় বর্ণিত ঘটনার সম্পর্কে সাংবাদিক এইচ এম শাহিন আলমের অবগত নেই কিংবা তাহার এ বিষয়ে আজও কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নাই। আমরা তার স্ত্রী চার ছেলেমেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।
আমাদের পরিবারের জীবনে নিরাপত্তা,ও মিথ্যা হয়রানি ষড়যন্ত্রমূল মামলা দুটি থেকে অব্যাহতি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সাংবাদিক এইচ এম শাহীন আলমের নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে ইতিমধ্যে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আইন ও বিচার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাগণের এবং মহাপরিদর্শক বাংলাদেশ পুলিশ বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন এই যে,হয়রানি ষড়যন্ত্র মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলার যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা ও উক্ত মামলা ২টি থেকে সাংবাদিক এইচ এম শাহিন আলমকে অব্যাহতি প্রদানের জোর দাবি করছি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এইচএম শাহীন আলমের
স্ত্রী রত্না আক্তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন,আমার স্বামী- শাহীন আলম একজন পেশাদার সাংবাদিক সন্ত্রাস মাদক চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে একটি চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ও এলাকা ভূমিদস্যু সক্রিয় একটি চক্র। আমার স্বামী কোনদিনও রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে নাই, ও তার কোন প্রকার নাম রাজনীতি কমিটি এবং রাজনীতিতে পাবেন না। তিনি শুধু সাংবাদিকতায় নিয়োজিত ছিলেন, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজ ও ভূমি দস্যরা উদ্দেশ্য প্রমোদিত আমাদের পরিবারকে সমাজে হেয়- প্রতিপন্ন করার জন্যই বিভিন্ন সময় আমাদের ওপর হামলা মামলা ও আমার স্বামীর উপর হামলা করিয়েছেন বাড়িঘর ভাঙচুর সহ একাধিকবার আমাদের পরিবারের উপর মারধর হামলা চালিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে আমরা থানায় মামলাও দিয়েছি,কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের মামলা আমলে নেয় না। উল্টো আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার স্বামী সাংবাদিক শাহিন আলমকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। আমি এখন ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ধন্না ধরতে হচ্ছে। আমার বাচ্চারা ওর বাবার জন্য সব সময়ই কান্নাকাটি করছে,তাই আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট নিরপক্ষ তদন্তর মাধ্যমে আমার স্বামীকে অবিলম্বে জেল থেকে মুক্তি দেওয়ার এবং তার বিরুদ্ধে হওয়া দুটি মামলা থেকে অব্যাহতি ও আমার বাচ্চাদের বাবা শাহীন আলমকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট জোর দাবি করছি। এবং ভূমি দস্যু মাদক ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।













