এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপির সদ্য বহি’ষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় উপজেলা বিএনপির কমিটিগুলো বি’লুপ্ত করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুনকে ঘিরে এই সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি-২৬) বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বি’লুপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে বিএনপির এক বড় অংশ মনে করেন- তারেক জিয়ার সিদ্ধান্তই সবার সিদ্ধান্ত। তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সবাই ভিপি নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। আর যারা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে অমান্য করেছে, বুঝতে হবে তারা আসলে দেশ বা নেতার বিরুদ্ধে কাজ করছে। নেতার সিদ্ধান্ত যারা মনেপ্রাণে মেনে চলে না, তারা আসলে কখনোই বিএনপি করেনা। তাদের মধ্যে কোনো না কোনো ঘাবলা ছিল। তাদের মনবাসনা হলো কিভাবে লু’ট’পাটে খাওয়া যাবে।
বি’লুপ্ত গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর সত্তার হাওলাদার বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হাসান মামুন তৃণমূল নেতাকর্মীদের ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন। তৃণমূলের সিদ্ধান্তেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, আমরাও তার সাথেই আছি। তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে এই আসনে গোলাম মাওলা রনিকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আমরা তার পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে নির্বাচন করি। কিন্তু নির্বাচনের পর নেতাকর্মীদের ওপর হাম’লা-মাম’লা হলেও তিনি কারও খোঁজ নেননি। সেই দুঃ’সময়ে হাসান মামুনই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দলের যে শা’স্তিই আসুক, আমরা মাথা পেতে নেব।
এদিকে বি’লুপ্ত দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু সিকদার বলেন, কমিটি বিলুপ্ত হলেও হাসান মামুনের নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্রি মুঠোফোনে বলেন, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বি’লুপ্তির বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির একটি চিঠি পেয়েছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটগত সমঝোতার কারণে বিএনপি প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে আসনটি ছেড়ে দেয়। তবে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় অংশের সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মাঠে নেমেছেন হাসান মামুন।













