কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর প্রচারণার ওপর বিধিনিষেধ থাকলেও তা উপেক্ষা করে একাধিক প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্যে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। সোম ও মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় এসব কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালানো হয়।
এর আগে, রাজিবপুর উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক।
অভিযোগে বলা হয়, তফসিল ঘোষণার পরও অনুমতি ছাড়া অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান রাজিবপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার, সড়কের মোড় ও জনসমাগমস্থলে সভা, গণসংযোগ এবং রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এতে ভোটারদের প্রভাবিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ২০০৮-এর ৫ (ক) ও ৫ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর অনুমতি ছাড়া কোনো সভা বা সমাবেশ করা নিষিদ্ধ এবং এমন কোনো কার্যক্রম করা যাবে না, যা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। ওমর ফারুক বলেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান প্রকাশ্যে নির্বাচনী বিধান অমান্য করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে উপজেলায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রৌমারী উপজেলায় নিয়মবহির্ভূতভাবে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ ও মিছিল করেছেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদিকা মমতাজ হোসেন লিপি। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি হাট-বাজারে গণসংযোগ চালান। এ সময় নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ প্রচারও করেন তিনি।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক মণ্ডল মঙ্গলবার দুপুরে রাজিবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন এবং কোনো নির্বাচনী প্রচারণা চালাননি।
এ ছাড়া, বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী রাজু আহমেদ নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য করে প্রচারণা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উঠান ও খুলি বৈঠক করেন। এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এসব বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।













