সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার জোতপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর একটি বৈধ নৌপথে চলাচলকারী লাইসেন্সধারী নৌযানের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে, আব্দুর রহিম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র ও নৌযান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অনুযায়ী, চৌহালী উপজেলার জোতপাড়া এলাকার গরুর হাট সংলগ্ন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মালিকানাধীন যমুনা নদীর একটি বৈধ চ্যানেলে চলাচলরত লাইসেন্সধারী নৌযান থেকে নিয়মিত চাঁদা দাবি করেন একই এলাকার গরুর হাটের দালাল হিসেবে পরিচিত আঃ রহিম নামের এক ব্যক্তি।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে আঃ রহিম তার কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে উক্ত নৌপথে চলাচলকারী নৌযানের মাঝি-মাল্লাদের কাছে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন—এই চ্যানেলে নৌযান চলাচল করতে হলে তার নির্ধারিত পরিমাণ চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় ওই পথে কোনো নৌযান চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি ধামকি দেন তিনি।
এ বিষয়ে নৌযানের মাঝি-মাল্লারা গণমাধ্যমকে জানান, “সরকারি মালিকানাধীন বৈধ নৌপথে আমাদের লাইসেন্সধারী নৌযান চলাচল করতেই পারে। আমরা নিয়মিত সরকারকে ভ্যাট, ট্যাক্স ও অন্যান্য রাজস্ব পরিশোধ করে নৌযান পরিচালনা করি। কোনো ব্যক্তির অবৈধ চাঁদা দাবির কাছে আমরা নতি স্বীকার করবো না।”মাঝি-মাল্লাদের দাবি, তাদের এই অবস্থানের পর আঃ রহিম ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন—“দেখা যাবে নৌযান কীভাবে চলে।” এরপর থেকেই তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে যমুনা নদীতে কথিত নদীভাঙনের অজুহাত তুলে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে স্থানীয়দের উসকানি দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করা এবং একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করারও চেষ্টা করছেন তিনি। নৌযান সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, “আমরা আইন মেনে ব্যবসা করি এবং সরকারকে শতভাগ রাজস্ব দিই। একজন চাঁদাবাজের কারণে বৈধ নৌযান চলাচল ব্যাহত হলে তা রাষ্ট্রীয় স্বার্থেরও ক্ষতি। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই—এ ধরনের চাঁদাবাজি ও গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আঃ রহিমের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি নৌপথে চাঁদা দাবি, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।













