ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে পাকিস্তানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ চরম সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে বন্দরনগরী করাচিতে। খবর ডন।
করাচির মাই কোলাচি রোডে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এক পর্যায়ে একদল উত্তেজিত যুবক কনস্যুলেটের বাইরের গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে এবং মূল ভবনের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস এবং গুলি চালালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। করাচির পুলিশ সার্জন সুমাইয়া সৈয়দ নিশ্চিত করেছেন যে, এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন। তবে এই গুলি নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
করাচি ছাড়াও রাজধানী ইসলামাবাদ এবং স্কার্দুতেও ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসলামাবাদে রেড জোনের কাছে হাজার হাজার মানুষ মার্কিন বিরোধী স্লোগান দেয় এবং পুলিশের রাবার বুলেটে দুইজন প্রাণ হারান।
অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর স্কার্দুতে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দলের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করাচিসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মার্কিন দূতাবাস থেকে তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।













