রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৬ জন দগ্ধ হয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ অবস্থা জানতে তাদের স্বজনরা হাসপাতালে হাসপাতালে খোঁজ নিচ্ছেন।
অকেয়া হোসেন নিধি। মাইলস্টোনে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। তার পরিবারের সদস্যরা আলাদা হয়ে হয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে খুঁজছেন নিদিকে। এখনো কোনো খোঁজ পাননি বলে জানিয়েছেন নিদির মামা মামুন। তিনি বার্ন ইনস্টিটিউটে তার ভাগ্নিকে খুঁজছেন। বিমান ধসের কথা শুনে তিনি কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ছুটে এসেছেন। নিদির পরিবার উত্তরা থাকেন। এদিকে মাইলস্টোন স্কুলের বাংলা ভার্সনের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাতেমার পিতা লিয়ন মির সন্তানের খোঁজ চেয়ে আহাজারি করছেন। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি সন্তানের সন্ধান চেয়েছেন। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সায়মার সন্ধানে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছে স্বজনরা
শিশুকন্যা সুবাহানা এবং স্ত্রী জান্নাতকে হারিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহাজারি করছিলেন সুজন। জরুরি বিভাগে ফোনে কাঁদতে কাঁদতে বারবার তিনি বলছিলেন, আমার বউ-মেয়ে সব শেষ। আমার আর কেউ নাই রে, তোরা কে কোথায় আছোস হাসপাতালে আয়।
সোমবার (২১ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নিজ আইডিতে দেয়া লাইভে এ আহ্বান জানান তিনি। লিয়ন মির দেশের একটি টেলিভিশনে কর্মরত রয়েছেন। ঢাকা বার্ন ইনস্টিটিউটে পঞ্চম তলায় ভর্তি রয়েছেন মাইলস্টোনের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইউশা। বাইরে অপেক্ষা করছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তার মা ও ভাই ইউশার কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ইউশা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। তার ভাই মাইলস্টোনে দশম শ্রেণীতে পড়ে। ইউশা বার্ন ইনস্টিটিউটে জরুরি বিভাগে ভর্তি রয়েছেন। তার বড় ভাই তাহসিন রোহান বলেন, হঠাৎ একটা বিকট শব্দ হয়। পরে ছোটাছুটি করে কী হয়েছে দেখতে যাই। পরে দেখি আমার বোনের ক্লাসরুমের পাশেই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আমার বোনকে দেখে আমি নিস্তব্ধ হয়ে যাই। তার মাথা থেকে রক্ত পড়ছিল।
সোমবার রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। দুপুর ১টার কিছু পর মাইলস্টোন কলেজে ‘এফ-৭ বিজিআই’ মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ সময় স্কুল শাখায় প্রথম শ্রেণী থেকে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাস চলমান ছিল। প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে আশপাশের সবাই। ছুটে আসেন স্থানীয় অনেক মানুষ। অন্যদিকে পাশে থাকা মাইলস্টোন শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।













