মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের একেবারে কাছাকাছি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় গ্রিডের টাওয়ার, নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং আশপাশের জনবসতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) আলোকদিয়ারচর এলাকায় জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ৫টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু শতাধিক বাল্কহেডে বোঝাই করে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, তীরবর্তী ভূমি এবং বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক শতবছরের পুরোনো বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে।একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানিয়রা।
অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জনবসতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও নিজেদের বসতবাড়ি ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। সর্বশেষ গত ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী বরাবর হস্তক্ষেপ কামনা করে ৯ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেন তারা।তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ,বারবার অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানানোর পরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তাদের দাবি,স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় থেকে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বালু উত্তোলনকারী চক্রের কর্মকাণ্ড বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) এবং নদী থেকে অনুমোদনবিহীন বালু উত্তোলন বন্ধে বিদ্যমান আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী। তাদের প্রশ্ন—শিবালয়ের এই বালু উত্তোলনকারী চক্র কি প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে?
এ বিষয়ে স্থানীয়রা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। খুব দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা,রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন দ্রুত মাঠপর্যায়ে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করবে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
















