মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা, প্রশাসনের অভিযান—কোনো কিছুই যেন থামাতে পারছে না মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীতে কথিত অবৈধ বালু উত্তোলন। দুর্গম আলোকদিয়া চরাঞ্চলে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেডে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকালে সরেজমিনে আলোকদিয়া চর এলাকায় গিয়ে জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন নদী অংশসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের তৎপরতা দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে তা অন্যত্র সরিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, স্থানীয় এক বাসিন্দার রিটের পর আলোকদিয়া চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এরপরও যদি একই এলাকায় ড্রেজার চলে, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—আদালতের নির্দেশনাও কি বালু উত্তোলনকারী চক্রের কাছে অকার্যকর?
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও অভিযানের পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে ড্রেজারগুলো। এমনকি অভিযান পরিচালনার খবর আগেই সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। বাংলাদেশ নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বলছেন, স্থলভাগে প্রশাসনের অভিযান যথেষ্ট নয়; নদীপথে নৌপুলিশের নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারি জরুরি। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে ড্রেজার চললেও নদীতে নৌপুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে আলোকদিয়া চরাঞ্চল নিয়ে হাইকোর্টের কোনো আদেশ তাঁর কাছে এখনো পৌঁছেনি বলে জানান তিনি।
এদিকে নৌপুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদপুর জোনের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রশ্ন এখন একটাই—অভিযান, অভিযোগ ও আদালতের নির্দেশনার পরও যদি যমুনার বুকে দিনের পর দিন ড্রেজার চলে, তাহলে এই বালু উত্তোলনের নেপথ্যের শক্তি আসলে কতটা প্রভাবশালী?












