পাবনা সদর উপজেলার দুর্গম চরতারাপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা নদীতে রাতের আঁধারে সশস্ত্র পাহারায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ড্রেজার বসিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলন এবং অবৈধ অস্ত্রধারী পাহারাদারদের মহড়ায় নদী ও চরাঞ্চলে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাতে সক্রিয় ড্রেজার ও অস্ত্রধারীদের মহড়া: পদ্মা নদীর জোতকাকুরিয়া, কলাবাগান চর, গোহাইলবাড়ী, ভাদুরিয়াডাঙ্গী, নিউচর পূর্বপাড়া, চর ভবানীপুর ও বেলতলা পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে তলদেশ কেটে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়,রাতে একাধিক স্পিডবোটে অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা পাহারা দিয়ে বালু উত্তোলন ও বাল্কহেড চলাচল নিশ্চিত করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের তীর সুজানগরের শামছুল চেয়ারম্যান, মালেক সিকদার এবং আঃ লতিফ মোল্লা ওরফে লতিফ বাহিনীর দিকে। এমনকি ২০২৩ সালে র্যাব-১২-এর কাছে আত্মসমর্পণ করা আঃ লতিফ মোল্লাও পুনরায় এই বালু বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তথ্য সংগ্রহে ঝুঁকি ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগ: দুর্গম চরাঞ্চলকে হাতিয়ার বানিয়ে সিন্ডিকেটটি পুরো নদীপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অস্ত্রধারীদের ভয়ে সাধারণ মানুষ তো বটেই, তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সুরক্ষাও চরম ঝুঁকিতে পড়ছে। সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো—প্রশাসনের অভিযানের খবর আগেই চক্রটির কাছে পৌঁছে যায়। অসাধু যোগসাজশের কারণে অভিযানের আগেই ড্রেজার ও বাল্কহেড সরিয়ে নেওয়ায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
দুর্গমতার অজুহাত ও প্রশাসনের বক্তব্য: অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালি জানান, নৌপুলিশকে সাথে নিয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির আগেই অপরাধীরা পালিয়ে যায়।তবে প্রশ্ন উঠছে, নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও ঠিক কীভাবে একই পয়েন্টে বারবার ড্রেজার বসানোর সাহস পায় এই সিন্ডিকেট?
পরিবেশ বিপর্যয় ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার পরীক্ষা: অনুমোদনহীন বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে, যা তীরভাঙন, কৃষিজমি ও বসতভিটার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা কেবল ড্রেজার জব্দ না করে এর পেছনে থাকা অর্থদাতা, পরিবহনকারী ও প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন।পদ্মার চরাঞ্চলে সশস্ত্র পাহারায় এই বালু বাণিজ্য কার আশ্রয়ে চলছে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে ভূক্তভোগী চরাঞ্চলবাসী।

















