পাবনা সদর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরতারাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের আড়ালে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বাল্কহেডে পরিবহন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সশস্ত্র লোকজন দিয়ে নদীপথে পাহারার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাবনা সদর উপজেলার পদ্মা নদীর জোতকাকুরিয়া ও কলাবাগান চর নদীপথ,গোহাইলবাড়ী মৌজার নদী এলাকা, ভাদুরিয়াডাঙ্গী মৌজা, নিউচর পূর্বপাড়া,চর ভবানীপুর,বেলতলা পয়েন্ট এবং চরতারাপুর সীমান্তবর্তী নদী অঞ্চল। সম্প্রতি (৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং) সরেজমিন অনুসন্ধানে একাধিক স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব পয়েন্টে নিয়মিতভাবে বিপুলসংখ্যক বাল্কহেড চলাচল করছে। এ সময় নদীতে দুটি স্পিডবোটে সশস্ত্র ব্যক্তিদের পাহারায় থাকার দৃশ্যও দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় নদীর এসব এলাকায় সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল সীমিত। একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদীর বালু উত্তোলন ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করছে।
অভিযোগ রয়েছে,অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষকে ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। সশস্ত্র পাহারার কারণে নদীতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করাও নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও, অভিযানের খবর আগেভাগেই সংশ্লিষ্ট চক্রের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে প্রশাসন পৌঁছানোর আগেই ড্রেজার ও বাল্কহেড সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালি জানিয়েছেন, প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার জব্দ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করার দাবি জানান। এবং তাদের মতে, পরিবেশ ও জননিরাপত্তা রক্ষায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ হওয়া জরুরি। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করে জড়িত প্রভাবশালী চক্র ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং নদীতীর রক্ষায় কার্যকর নজরদারি জোরদার করার দাবি জানান ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।















