গণহত্যা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।প্রশ্নোত্তর পর্বে আখতার হোসেন ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকার কারণে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
এ ছাড়া বিদেশে থাকা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি হামলা, হেনস্তা ও হুমকির শিকার হচ্ছেন বলেও সংসদে উল্লেখ করেন তিনি। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় ইতোমধ্যে কূটনৈতিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়াও চলছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ বিদেশে অবস্থানরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে।সংসদে নিজের প্রথম বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান হুমায়ুন কবির। বিদেশে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলাকে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে দেখেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, গণহত্যা ও অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে।শেখ হাসিনাসহ বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় নেওয়ার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।














