টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার বেলটিয়া মৌজায় ধলেশ্বরী নদী-এ উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধ বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র পাহারায় এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, নদীর বুকে অন্তত পাঁচটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিস্ময়করভাবে, জনবসতি সংলগ্ন এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয় পরিবেশ, বসতভিটা ও অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের বাধা প্রদান, হুমকি এবং আক্রমণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অভিযুক্ত সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তি ফোনালাপে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করলেও কোনো বৈধ সরকারি অনুমোদনের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। বরং তিনি স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে বিষয়টি অবগত থাকার দাবি করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করেন—যা ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গণমাধ্যমকে জানান, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আইনি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৬২ ধারায় সরকারি মালিকানাধীন নদী, খাল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিকটবর্তী এলাকা থেকে অনুমোদনবিহীন বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। পাশাপাশি, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করা Contempt of Court হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুতর আইনগত পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
উল্লেখ্য, ঘটনাস্থলটি যমুনা সেতু থেকে মাত্র ৮–৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন, তীর ভাঙন এবং সেতুর ভিত্তির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, অবৈধ ড্রেজার জব্দ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “এই অবৈধ বালু উত্তোলন শুধু পরিবেশ ধ্বংস করছে না, বরং জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
শেষ কথা:আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও
দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়। অন্যথায়, এটি আইনের শাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের এক গভীর সংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে।













