সর্বশেষ

আদমদীঘিতে মামলা দায়েরের পরও আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে, জনমনে প্রশ্ন

জেলা প্রতিনিধি

বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার কোমারপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ছামছুল হক মন্ডলের ছেলে মো. মাসুম রাব্বী (৩২)। গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তিনি বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫–২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেন।

এজাহার দায়েরের চার দিন (৯৬ ঘণ্টা) পেরিয়ে গেলেও পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় আসামিরা এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মাসুম রাব্বী। প্রাথমিক তদন্তে ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মামলা রেকর্ড হলেও পরবর্তী পদক্ষেপে ধীরগতি থাকায় উপজেলার সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ কি ব্যর্থ?

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. মাসুম রাব্বী (৩২), পিতা—মো. ছামছুল হক মন্ডল, সাং—কোমারপুর, থানা—আদমদীঘি, জেলা—বগুড়া। অভিযুক্তরা হলেন—
১. মো. বাবর (১৬), পিতা—মো. বলাই
২. মো. ইস্তি (১৯), পিতা—মো. আজাদুল সরদার
৩. মো. রোহান (১৮), পিতা—মো. রফিকুল ইসলাম
৪. মো. ফাহিম ইসলাম (১৬), পিতা—লালকু মিয়া
৫. মো. রিমন (১৮), পিতা—মো. কুদ্দুস
৬. মো. ছিজান সরদার (১৪)
৭. মো. সিয়াম সরদার (২০), পিতা—মো. রবিউল সরদার
সকলেই বড় জিনইর গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আশুলিয়ায় ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবক উদ্ধার, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে আদমদীঘি থানাধীন ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কোমারপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অভিযুক্তরা ক্রিকেট খেলতে আসে। এ সময় বাদীর বড় ভাই মো. শাহিনুর ইসলাম (৩৫) পাশের জমিতে কলাগাছ দেখতে যান। তিনি দেখতে পান, কয়েকটি ছাগল কলাগাছ নষ্ট করছে। ছাগলগুলোকে তাড়ানোর চেষ্টা করলে সেগুলো মাঠে ঢুকে পড়ে।

এ সময় অভিযুক্তরা শাহিনুর ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হাতে থাকা ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে অতর্কিতভাবে তার বুকে ও কোমরে একাধিক আঘাত করে। এতে তার বাম পাঁজরের দুটি হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

শাহিনুর ইসলামের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশের সহায়তায় তাকে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী কোমারপুর ও জিনইর গ্রামের বাসিন্দারা রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় যেতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী।

ময়মনসিংহ উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সুজাউদ্দিন আর নেই

ভুক্তভোগী মাসুম রাব্বী বলেন,
“আমরা এখনো বুঝতে পারছি না, আমাদের গ্রামের অসহায় মানুষ আইনের সহায়তা পাবে কি না। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। কোনো অদৃশ্য কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, যারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাইকে গুরুতর আহত করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হোক।”

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফেরদৌস আলী জানান, প্রধান তিনজন আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে বাকি চারজন আসামি সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি আরও বলেন, আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে রাতে অভিযান চালানো হবে।

এমন বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে—আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা কি ভুক্তভোগীর দায়িত্ব, নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর?

    Opps, No posts were found.

সর্বশেষ

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
০৫ এপ্রিল ২০২৬
Trulli

আদমদীঘিতে মামলা দায়েরের পরও আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে, জনমনে প্রশ্ন