খন্দকার মোহাম্মাদ আলী, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের তামাই খন্দকার পাড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সহোদর ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে।
আহতরা হলেন মৃত আমজাদ হোসেনের দুই ছেলে—ওবাইদুল হোসেন (রিপন) ও রাশিদুল ইসলাম। অভিযুক্ত একই মহল্লার মৃত বজলার রহমান (বকুল) খন্দকারের ছেলে মহিদুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তির কারণে তার সহায়-সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জানাযায় বেশ কয়েকবার সময় নিয়ে প্রাবাসী জীবনজাপন করেছেন । পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা করানো হলেও মাঝে মাঝে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে অকারণে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
গত ৩ এপ্রিল, শুক্রবার, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খন্দকার পাড়ার মোড়ে আবু সাঈদের দোকানের সামনে রিপন ও রাশিদুলের সঙ্গে মহিদুলের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে মহিদুল তাদের মারার হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মহিদুলকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয় এবং তার পরিবারের লোকজন বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেয়।
পরবর্তীতে এলাকায় আর কোনো বিশৃঙ্খলা না হওয়ায় রিপন ও রাশিদুল স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে থাকেন। তবে পরে মহিদুল তার সহযোগী মাদকসেবীদের নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলার প্রস্তুতি নেয় বলে জানা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কিছু ব্যক্তি বিষয়টিকে দলীয় কোন্দলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়াতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ এপ্রিল, শনিবার, বেলা ১২টার দিকে মহিদুল আবারও হামলার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে অতর্কিতভাবে রিপনের পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তার চিৎকারে বড় ভাই রাশিদুল এগিয়ে এলে তাকেও পেটের পাশে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের বেড থেকে রিপন জানান, মহিদুলের হামলার বিষয়ে গণমাধ্যমে সত্য ঘটনা তুলে ধরে তিনি আইনগত সহায়তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
মহিদুল গ্রেপ্তার হওয়ায় তার পরিবারের লোকজনকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমাম জাফর জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে এবং আজ ৫ এপ্রিল তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।













