মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন নদী তলদেশ থেকে ফের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি,এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছে আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত‘সশস্ত্র বাপ্পি বাহিনী’র প্রধান বাপ্পি ও তার সহযোগীরা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়,জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কয়েকজন যুবক সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছিলেন। তাদের পাহারায় নদী থেকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি অবৈধ ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন চলছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের বহনকারী ট্রলারের মাঝি নিরাপত্তা জনিত শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,ওই নৌকায় সশস্ত্র বাপ্পি অবস্থান করছে। তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলেও এলাকায় প্রচলিত আছে। বিষয়টি টের পেলে ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলোকদিয়া চর এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, যমুনা নদীপথে বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম। তাদের অভিযোগ,চরাঞ্চলের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও প্রতিপক্ষকে দমন করতে দীর্ঘদিন যাবত সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ব্যবহার করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় নদীপথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বালুমহল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মিরাজ হত্যা মামলার পরও থেমে নেই অবৈধ বালু উত্তোলন। বরং গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল এবং সর্বশেষ ১০ মে এলাকাজুড়ে সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা-র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১২ মে ২০২৬ তারিখেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কাউকেই যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি যেহেতু আমাদের নজরে এসেছে,সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।”
এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা,বিশেষ করে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।











