পবিত্র ঈদুল আযহা-২০২৬ উদযাপন শেষে লাখো মানুষ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলেও এবার সড়কপথে দেখা যাচ্ছে তুলনামূলক শৃঙ্খলাপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দেশব্যাপী ব্যাপক নজরদারি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এর সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিবিড় তদারকিতে ঈদ-পরবর্তী সড়ক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান এর সক্রিয় নেতৃত্ব। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদ-পরবর্তী যাত্রীসেবার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি নিজে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমে গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। এমনকি রাত ২টা পর্যন্ত কন্ট্রোল রুমে থেকে বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তদারকি এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছেন তিনি।
বিআরটিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও দায়িত্বশীলতা ও কর্মতৎপরতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। বিশেষ করে কর্মকর্তা পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং), বিআরটিএ ঢাকা বিভাগীয় শফিকুজ্জামান ভূঞার ভূমিকা সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সমন্বয়, তদারকি, পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতকরণে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দায়িত্বশীলতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত কাজের মাধ্যমে তিনি বিআরটিএর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ঈদ-পরবর্তী সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম চালু রাখার পাশাপাশি সারা দেশে ৬১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালসহ দেশের প্রতিটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ভিজিলেন্স টিম দায়িত্ব পালন করছে। বাস ছাড়ার পূর্বে চালকদের ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, ট্রাফিক আইন অনুসরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এবারের ঈদ-পরবর্তী কার্যক্রমে মোটরসাইকেল চালকদের নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বিআরটিএ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বহন, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং পরিহার এবং সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী যানবাহন পরিচালনার বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এ খাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।
তাছাড়া ঢাকা জেলা সহ বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন রুটে যাত্রীবাহী বাস ছাড়ার আগে চালক ও কন্ডাক্টরদের সচেতনতামূলক ব্রিফিং প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে সকল জেলায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা সহ আশপাশের এলাকায় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর আওতায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ইতিবাচক চিত্র পাওয়া গেছে। সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন বাস কাউন্টারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান অবস্থায় পাওয়া যায়। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা অন্য কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। উল্লেখযোগ্য কোনো অনিয়ম না থাকায় কোনো জরিমানাও আরোপ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ঈদ-পরবর্তী যাত্রা ব্যবস্থাপনায় বিআরটিএ শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে নয়, বরং জনসচেতনতা সৃষ্টি, সমন্বয় এবং সেবামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম, তদারকি এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার ফলে যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএর চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সার্কেল অফিসসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বিত প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরাপদ সড়ক, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে বিআরটিএর এ কার্যক্রম ঈদ-পরবর্তী সময়জুড়ে আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।













