মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চরে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আকারে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ বালু মাফিয়া চক্র দিনের পর দিন রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে যাচ্ছে,অথচ কার্যকর প্রতিরোধ দৃশ্যমান নয়।
গত ৮ জুন (সোমবার) সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক ড্রেজার বসিয়ে যমুনা নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আঃ রশিদ ও আঃ করিমের নেতৃত্বে প্রভাবশালী একটি চক্র এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। বালু উত্তোলনস্থলে কয়েকজন সশস্ত্র যুবককে পাহারার দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের নিকটবর্তী এলাকা থেকে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে টাওয়ারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নদীভাঙন, কৃষিজমি ক্ষয়, পরিবেশ ধ্বংস এবং জননিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাউকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ অনুযায়ী অনুমোদনহীন স্থানে বালু উত্তোলন একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অবৈধ বালু উত্তোলন,পরিবহন ও মজুদের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড,ড্রেজার জব্দ এবং অপরাধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং জাতীয় গ্রিড সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে প্রভাবশালী বালু মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য আরও ভয়াবহ রূপ নেবে এবং যমুনা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা চরম পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।















