সর্বশেষ

রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করে যমুনায় অবৈধ বালু উত্তোলন:প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থ,পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় আইনকে উপেক্ষা করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন এবং শতাধিক বাল্কহেডে লোড-আনলোড কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৮ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৮টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলোকদিয়াচর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে ১০টিরও বেশি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দিয়ে ব্যাপকহারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শতাধিক বাল্কহেডে বালু লোড ও আনলোডের কার্যক্রম চলতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাদের দাবি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে অভিযুক্ত চক্রটি কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিরুলিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন: বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে মনিরুল হকের আর্থিক অনুদান

যমুনা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় আইন যদি প্রকাশ্যে লঙ্ঘিত হয় এবং প্রশাসন তা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে জনস্বার্থ ও আইনের শাসন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। তাদের অভিযোগ, অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে, তীব্র ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং জনপদ,কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ছে।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ধারা ১৫-এ এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অথবা সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত ড্রেজার, বালুবাহী বাল্কহেড, যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দ করারও সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,আইনের এসব বিধান থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট চক্র প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে, যা আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল বলে তারা মনে করছেন।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,আপনাদের কয়েকটি প্রতিবেদন আমি দেখেছি। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউএনও অভিযানও পরিচালনা করেছেন।”তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন,যদি অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে,তাহলে এখনো কীভাবে একাধিক ড্রেজার ও শতাধিক বাল্কহেডে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন এবং পরিবহন কার্যক্রম চলমান রয়েছে? তাদের দাবি,বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং আইনের কঠোর ও ধারাবাহিক প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।

ঢাকায় অবস্থানকালে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সাংবাদিক ফাহিমের পরিবারের

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১৮ জুলাই ২০২৬
Trulli

রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করে যমুনায় অবৈধ বালু উত্তোলন:প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ