মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর আলোকদিয়া চরে হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও জনবসতি সংলগ্ন এলাকা থেকে কোনো ধরনের বৈধ ইজারা ছাড়াই অব্যাহতভাবে বালু তুলছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে নদীভাঙন তীব্র হয়ে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হাইকোর্ট এক আদেশে শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া চরের যমুনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদেশের অনুলিপি প্রাপ্তির দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে অগ্রগতির প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তবে স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, উচ্চ আদালতের এ নির্দেশনার পরও বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটেও সরেজমিনে ওই এলাকায় বালু উত্তোলন চলতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনো বৈধ বালুমহাল না থাকা সত্ত্বেও আলোকদিয়া চরের ৭ ও ৮ নম্বর জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারসংলগ্ন এলাকা থেকে শাহআলমের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র সশস্ত্র পাহারায় দিনরাত বালু তুলছে। অবৈধভাবে অনবরত ড্রেজিংয়ের ফলে যমুনার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দ্রুত এই বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে পাশ্ববর্তী বসতবাড়ি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং জাতীয় গ্রিডের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ টাওয়ার। এতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী অবিলম্বে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে যমুনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত চক্রটির বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি জানতে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ না করায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।















