বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ ও মাসব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ‘কঠিন চীবর দান’ উদযাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সকল ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন ও নিরাপদে পালন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।” সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী ২৫ অক্টোবর প্রবারণা পূর্ণিমা এবং বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
দুর্গাপূজার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, চলমান দুর্গোৎসবে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অ্যাপভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সফল ভূমিকা রাখা গেছে। প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও একইভাবে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজবের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো ব্যক্তিগত বা পরিচালনা কমিটি সংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়, যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সভায় বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন-চেতনার শুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত ফানুস উড়ানো ও কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। এসময় নেতৃবৃন্দ সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারসমূহের একটি তালিকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করবেন বলে জানান, যা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষু-সহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



















