বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের আরও গুরুতর প্রভাব সামনে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছে কাতার। দেশটির আশঙ্কা, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাতের প্রভাব এখনো পুরোপুরি অনুভব করেনি বিশ্ব অর্থনীতি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দোহায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে এ আশঙ্কার কথা জানান কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সাউদ বিন আবদুর রহমান আল থানি।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং পরবর্তী পাল্টাপাল্টি আক্রমণের পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
গত মার্চে কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে হামলায় গ্যাস অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুরোপুরি মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছে কাতার।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর অতিরিক্ত কর বা ফি আরোপ না করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। কাতারের মতে, এ ধরনের বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।
কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা
সংঘাতের মধ্যেও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে কাতার। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আলোচনা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক চালু রাখা জরুরি বলে মনে করে দেশটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার, পাকিস্তান ও ওমান যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে কাতার জানিয়েছে, এ সহযোগিতা তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। দেশটির দাবি, এর ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন। সংঘাতের সময় ঘাঁটিটি ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কাতার আরও জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে শিগগিরই নতুন আঞ্চলিক চুক্তি বা অংশীদারত্বের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
হ্যাশট্যাগ:
#জ্বালানিসংকট #কাতার #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #মধ্যপ্রাচ্য #হরমুজপ্রণালি #বিশ্বঅর্থনীতি #আন্তর্জাতিকসংবাদ




















