মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর মানবিক সংকটের চাপ মোকাবিলা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সংকটের চাপ বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এর টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।
জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সংঘাত বন্ধ করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
সীমান্তে স্থলমাইন, মানবপাচার ও মাদকপাচার নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থলমাইনের বিস্তার, মানবপাচার ও মাদকপাচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব সমস্যা শুধু সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তাই নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক সংলাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক, সিনিয়র পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার ডানকান কিথ উইলসন এবং ইউএনএইচসিআরের উপপ্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকিয়সোনিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




















