লটারির মাধ্যমে দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন পাওয়ার পর যাতায়াত, বাসস্থান ও পারিবারিক নানা সমস্যায় পড়েছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫ ব্যাচের অনেক শিক্ষক। এসব সমস্যা কমাতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বদলি বা ‘মিউচুয়াল ট্রান্সফার’ চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকরা এ দাবি জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারিত হওয়ায় অনেক শিক্ষককে নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরের বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত যাতায়াত, বাসস্থানের ব্যবস্থা, পারিবারিক দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষকদের মতে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বদলির ব্যবস্থা চালু হলে একই ধরনের সমস্যায় থাকা দুই শিক্ষক নিজেদের মধ্যে কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। এতে উভয় পক্ষের সুবিধা হবে এবং যাতায়াতের ভোগান্তিও কমবে।
চর, হাওর ও দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চরাঞ্চল, হাওরাঞ্চল ও অন্যান্য দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সমস্যা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অঞ্চলে যাতায়াতব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হওয়ায় নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং বসবাসের ব্যবস্থা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এ ছাড়া নারী শিক্ষকদের পারিবারিক দায়িত্ব, নিরাপত্তা ও যাতায়াতের অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে পারস্পরিক বদলির আবেদন সহজ করা কিংবা তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
তাদের বক্তব্য, একজন শিক্ষক কর্মস্থলে নিরাপদ ও মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশও ভালো হয়। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভোগান্তি কমানো গেলে শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ আরও আনন্দময় ও কার্যকর হতে পারে।
শিক্ষকদের মতে, চাকরিজীবনের শুরুতেই দূরবর্তী কর্মস্থলে পদায়নের কারণে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধানে স্বচ্ছ, সহজ ও দ্রুত পারস্পরিক বদলির ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বাস্তব পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের পারস্পরিক সম্মতি, নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা এবং পারিবারিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ সুযোগ চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।














