ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত ‘তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসা’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান মোল্লা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান এবং একপর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে বেশ কিছু দিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে সম্প্রতি উক্ত নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ পেলে এলাকায় অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মাদ্রাসা চত্বরে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেন।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “ধর্মীয় শিক্ষার মতো পবিত্র ব্যবস্থার আড়ালে কোনো ধরনের অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং অপরাধী প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপকর্মের সাহস না পায়।”
উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান,অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে ছোট কালিয়াকৈর এলাকায় কিছুটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন,আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরবে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

















