রাজধানীর ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান লালবাগ কেল্লায় পরকীয়া করতে গিয়ে এক দম্পতি হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। জনবহুল ও প্রত্নতাত্ত্বিক এই স্থানে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬ )দুপুরে লালবাগ কেল্লার চত্বরে সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি ও আপত্তিকর আচরণ লক্ষ্য করেন উপস্থিত কিছু দর্শনার্থী। একপর্যায়ে ওই নারীর স্বামী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বা আশপাশের লোকজনের সহায়তায় সেখানে উপস্থিত হন এবং হাতেনাতে তাদের দুজনকে ধরে ফেলেন। এ সময় কেল্লা চত্বরে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে এবং কৌতূহলী জনতার ভিড় জমে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। খবর পেয়ে লালবাগ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িতদের থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
লালবাগ কেল্লা কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্র বা দর্শনীয় স্থান নয়, এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এখানে প্রতিদিন শত শত পরিবার, শিক্ষার্থী ও বিদেশি পর্যটক আসেন অবসর সময় কাটাতে এবং ইতিহাস জানতে। এ ধরনের একটি পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থানে এ ধরনের ঘটনা ঘটার কারণে সাধারণ দর্শনার্থী ও পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের মধ্যে চরম অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল মনে করছেন, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের আরও কঠোর হওয়া জরুরি।
নিরাপত্তা জোরদার করা: কেল্লার ভেতরে ও চত্বরের বিভিন্ন পয়েন্টে সিকিউরিটি গার্ড এবং টহল পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো।
সিসি ক্যামেরা স্থাপন: পুরো চত্বর সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করে নিয়মিত মনিটরিং করা, যাতে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ রোধ করা সম্ভব হয়।
সচেতনতামূলক প্রচারণা: দর্শনার্থীদের জন্য শালীনতা বজায় রাখা এবং কেল্লার ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষায় সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড বা নির্দেশনা ঝুলিয়ে দেওয়া।
ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লার মতো দর্শনীয় স্থানগুলোর ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষের সুষ্ঠু বিনোদনের পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের যৌথ নজরদারি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।














