সিংগাইরে যুবলীগের ২ গ্রুপে সংঘর্ষ-আহত ৪, আটক-২

মিজানুর রহমান, মানিকগঞ্জ :

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবলীগের ২ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও করার দায়ে একটি পক্ষ মাইটিভির প্রতিনিধির ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর চালিয়েছে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে আটক করেছে।

আজ সোমবার (১ জুন) বেলা ১২ টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগ নেতা ইঞ্জি, শাহাদত হোসেনের এক সমর্থনকারীকে যুবলীগ নেতা এসএম আলমগীর ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির লোকজন নিয়ে মারধর করার পর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জানালার কয়েকটি কাঁচ ও বেশ কিছু স্থাপনায় ভাংচুর চালায় বলে প্রতিপক্ষের দাবি। খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মঞ্জুরুল করিম (৪০), নুর মুহাম্মাদ (৪০) তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনদের উপর হামলা চালায়।

এতে যুবলীগ নেতা এসএম আলমগীর গুরুত্বর জখম হয়। এরপর শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মহরা; জয়মন্টপ পুরাতন বাজার হতে নতুন বাজার পর্যন্ত লোকারন্যে রণক্ষেত্রে তৈরী হয় । উভয় পক্ষের কয়েক শতাধিক লোক সমর্থনকারীরা লাঠি-সোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহরা দিতে থাকে। কিছুক্ষনের জন্য হলেও এলাকাটি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার বর্বর জাতিতে রুপ নেয়। ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৪ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে সিংগাইর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে ঘটনাস্থল হতে পুলিশ মনির (৩০) ও ফজল (৬০) নামের ২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি: শাহাদত হোসেন বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশে খবর দেই এবং আমি উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। প্রতিপক্ষের দুষ্কৃতকারীরা আমার পরিষদের জানালার কাঁচ ও বেশ কিছু স্থাপনায় ভাংচুর চালিয়েছে। তিনি আরো বলেন, মাইটিভির ক্যামেরা ভাংচুরের ঘটনার বিষয়টি আমি নিষ্ঠার সাথে দেখবো। এদিকে যুবলীগ নেতা এসএম আলমগীর নিজেদের নির্দোস দাবি করে বলেন, তারা নিজেরা ইউনিয়ন পরিষদে ভাংচুর করে আমাদের দোষারোপ করছে।

অন্যদিকে মাইটিভির সিংগাইর প্রতিনিধি বাদল হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থলের ভিডিওি করায় চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজন আমার ক্যামেরা ম্যানের কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর চালায়। পরে আমাকে দেখার পর অন্যরা ক্যামেরা দিয়ে দেয়। অন্যদিকে স্থানীয়রা বলছেন, স্থানীয় রাজনীতে প্রভাব বিস্তার করতে চেয়ারম্যান গ্রুপ এবং বোরহান মেম্বার গ্রুপের লোকজনদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। আরেকদিকে এ ঘটনায় উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র নেতা কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দা জানিয়ে ঘটনায় জড়িতদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার মিয়া বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং সেই সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। ঘটনাস্থল হতে ২ জনকে আটক করে থানা হাজতে রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *