সিংগাইরে যুবদল নেতার উপর সন্ত্রাসী হামলা অভিযোগের তীর জেলা পরিষদের সদস্য সানির দিকে

মিজানুর রহমান :

সিংগাইরে যুবদল নেতা মজিবর রহমান (৪০) এর উপর সন্ত্রাসী কায়দায় রাতের আঁধারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব পরিকল্পনা করে দেশীয় অস্ত্রশস্রে সজ্জিত হয়ে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী তার উপর এই হামলা চালায়। এ হামলার নেপথ্যে পেছন থেকে শেল্টার দিয়ে ক্যাডার ভাড়া করে হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য এ্যাড: কোহিনুর ইসলাম সানির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে ভুক্তিভোগী মজিবর। মজিবর সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মৃত কোমর আলী প্রেসিডেন্ট) এর ছেলে এবং ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। ছেলেবেলা হতেই নানার বাড়ি একই উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া গ্রামে থাকছেন তিনি। হামলায় গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে তিনি সাভারের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের দীপ ক্লিনিকে তাকে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা অনেকটা উন্নতির দিকে।

আহত পরিবার জানায়, গত শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত ৯ টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে মজিবরের নানার বাড়ির অতি সন্নিকটে সরকারি রাস্তার উপর পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্র নিয়ে হামলা চালায় একদল ক্যাডার বাহিনী। এ হামলায় তার মাথায় কোপ লাগলে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। চিৎকারের খবর শুনে তার বৃদ্ধ মা এগিয়ে এসে নিজের দেহকে সোপে দেয় সন্তানকে রক্ষায়। পিঠ পেতে বুকে নিয়ে আড়াল করে সন্তানকে। সন্ত্রাসীরা তার বৃদ্ধ মাকেও উপর্যপুরি লাঠির আঘাত করতে থাকে। পরে আশপাশের লোকজন টের পেলে সন্ত্রাসীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে মজিবরকে উদ্ধার করে ঢাকার সাভারের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের দীপ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

মুঠোফোনে কথা হলে মজিবর বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ্যাড: কোহিনুর ইসলাম সানি তার ভাড়া করা ক্যাডার বাহিনী দিয়ে আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সানির সাথে আমার বিরোধ চরমে। মজিবর আরো বলেন, সানির পরিবারের দোষত্রুটি গ্রাম্য শালিসে সাহসের সাথে বলাতে তারা আমার পেছনে লেগেছে। আমার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের দায়ে গণপিটুনির মিথ্যা গুজবও রটানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমি ধুমপানও করিনা। এদিকে আজ রোববার ১১ টার দিকে সরেজমিনে মেদুলিয়া গ্রামে গেলে সে এলাকার আব্দুল হালিম (৬০), দলিল উদ্দিন (৭০) ও আমেনা খাতুন (৫০) সহ অনেকেই বলেন মজিবর মদ্যপান করে এলাকায় অযথা বকাঝকা করে মাঝেমাঝেই। তাই এলাকাবাসি মারছে, তবে কে মারছে এমন প্রশ্ন করলে সেটা জানেননা বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে মজিবর বলেন, আসামী পক্ষ তারা নিজে এবং ভাড়া করা লোক দিয়ে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিচ্ছে। আমি যদি মদ পান করি আমাকে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হোক। অপরদিকে মজিবরের উপর হামলার ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এ্যাড: কোহিনুর ইসলাম সানি বলেন, সম্প্রতি করোনা মহামারিতে আমি জনগনের খেদমতে নির্বাচনী এলাকায় প্রাণপণ ছুটে বেড়াচ্ছি। অনেক ভালো ম্যাসেজও পাচ্ছি। তাই একদল স্বার্থ অন্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে আমার জনপ্রিয়তা কমানোর জন্য। এই মিথ্যে বানোয়াট অপবাদ তারই বহির্প্রকাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *