শিবালয়–দৌলতপুরের বিভিন্ন চরাঞ্চলে সেকশন কাটার মেশিনে রাতের আঁধারে বালু লুট—প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, সাংবাদিকদের উপর হামলা।
সরেজমিনে দেখা যায়,মানিকগঞ্জের শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পদ্মা ও যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকটি গ্রুপ রাতের অন্ধকারে আধুনিক সেকশন কাটার মেশিন বসিয়ে জনবসতি ঘেঁষা এলাকা থেকে বালু তুলছে, যার ফলে তীব্র নদীভাঙনে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে বসতঘর, ফসলি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিবালয়ের জাফরগঞ্জ–মুন্সিকান্দী এলাকায় বালুদস্যুদের দৌরাত্ম্য সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়—শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ ও মুন্সিকান্দী এলাকায় বিকাল থেকেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত বালুদস্যুরা ভারী মেশিন স্থাপন করে নদী কাটছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিনের আলো ফুরোলে শুরু হয় বালু লুটের মহোৎসব।
স্থানীয়দের দাবি,অবৈধ ড্রেজিংয়ের প্রভাবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ভাঙন, অথচ অভিযোগ করেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাচ্ছেন না। দৌলতপুর:চরকাটারি–বাঘুটিয়া–পারুলিয়ায় তীব্র ভাঙনের শঙ্কা দৌলতপুরের দুর্গম চর—চরকাটারি, বাঘুটিয়া ও পারুলিয়া এলাকায় গিয়ে আরও ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবশালী মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের অনুসারীরা গত ১৯ নভেম্বর (২০২৫) শুক্রবার বাঘুটিয়া বাজার সংলগ্ন জনবসতি পূর্ণ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন নদীখাত থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করে।
স্থানীয়রা জানান—এই ড্রেজিংয়ের কারণে বাঘুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ঢাকা–ভেড়ামারা 132 kV ট্রান্সমিশন লাইনের অন্তত ৭টি পিলার চরম ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় ওই গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনটি নদীতে তলিয়ে গিয়ে দেশের বড় অংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
মানববন্ধনে হামলা: সাংবাদিকসহ আহত বহুজন অবৈধ ড্রেজিং বন্ধের দাবিতে ১৯ নভেম্বর বাঘুটিয়া বাজারে যখন এলাকাবাসী মানববন্ধন করছিলেন, তখন প্রিন্স বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার শিকার হন প্রতিবাদকারী নাগরিকসহ সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া একাধিক গণমাধ্যম কর্মী। গুরুতর আহত হয়েছেন সাংবাদিক সোলেমান হোসেন ও আসাদুজ্জামান আসাদসহ আরও কয়েকজন।
প্রশাসনের অবস্থান অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক জানান—অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন,“আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নিয়েছি। তারা যদি পুনরায় অবৈধ ড্রেজিং শুরু করে, কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিবাদঃ
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ঐক্যপরিষদের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন—“সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় আপনারা কেন নীরব? সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কি আইনের ঊর্ধ্বে?”
বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।











