সাভারে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ হত্যা, মাদক, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) নূর মোহাম্মদ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন সন্ধ্যায় মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের জন্য সাভার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারপুর বালুর মাঠ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।
সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে রফিকুল ইসলাম তার সহযোগীদের ডেকে জড়ো করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।
পুলিশের দাবি, পরিচয় দেওয়ার পরও রফিকুল ইসলাম ইট নিক্ষেপ করে এসআই এস এম শামীমের মুখে আঘাত করেন। এতে তিনি মুখ ও ঠোঁটে গুরুতর আহত হন। এএসআই মশিউর রহমানকেও লাঠি ও রড দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হলে পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর জেলা পুলিশের নির্দেশনায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এতে পুলিশের ওপর হামলা মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— আরিফ ইসলাম (২০), সাগর মিয়া (২৩), মো. মারুফ (২০), মো. হুমায়ুন (১৯) ও মো. রাকেশ মাল (৩০)। পৃথক অভিযানে একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামি মোবারক হোসেন (৪২)-কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে মোবারক হোসেন পাথরের শিল দিয়ে স্ত্রী নাজমা বেগমকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অন্য অভিযানে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মাদক মামলায় ৩ জন, চুরি মামলায় ২ জন, হত্যাচেষ্টা মামলায় ২ জন এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ১০ জন রয়েছেন।
সাভার মডেল থানার পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) নূর মোহাম্মদ বলেন, “পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।”












