মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হাত পা বেঁধে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনার প্রায় মাস পার হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার ও লুট হওয়া ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা এখনও উদ্ধার করতে পারেনি। এ নিয়ে প্রবাসীর বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা সংশয়। ঘটনাটি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ঘটেছে।
জানা গেছে, গত ১৩ নভেম্বর বেলা অনুমান ৩ টার দিকে সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ইরতা-কাশেমপুর গ্রামের মৃত সিদ্দিক খানের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫০) ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ঐ দিন দিবাগত রাত অনুমান ৪ টার দিকে তাহাজ্জুতের নামাজ পরতে পাশেই মসজিদ থেকে পানি আনতে বের হন সুফিয়া বেগম। পানি নিয়ে নিজ বাড়ির উঠানে পৌঁছামাত্র পূর্ব হতে ওৎ পেতে থাকা দুষ্কৃতকারী ফরহাদ খান (৪৫), হিটলার খান (৫৫), ছাদেক খান (৩৫), আল আমিন খান (৩০) ও রেজিয়া (৩৫) সবাই মিলে সুফিয়া বেগমকে ঘিরে ফেলে।
সুফিয়া বেগম জানান, ফরহাদ আমার মাথায় পিস্তল ধরে বলে যে উচ্চ শব্দ করলে জানে মেরে ফেলবে। তাই নিরুপায় হয়ে চুপ রই। ওরা আমাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। ঘরে ঢুকে যায়। ফরহাদ খান গংরা আমাদের সাথে ধীর্ঘ দিন যাবৎ শত্রুতা করে আসছে। তাই আমাদের অর্থনৈতিকভাবে হেরেজম্যান্ট করতে ওরা আমার বাড়িতে ডাকাতি করে নগদ সাড়ে ছয় লাখ টাকা ও স্বর্ণের ১ ভরি ওজনের গহনা নিয়ে যায়। আমার দুই ছেলে শফিকুল ও সাব্বির প্রবাসে অনেক কষ্ট করে এই টাকা পাঠিয়েছে ব্রাক ব্যাংকের ঋণ সাড়ার জন্য।
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে কথা হলে প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনার দিন আমি ফজর ওয়াক্তের একটু আগে ওঠে দেখি যে বারান্দায় সুফিয়া বেগম রশি দ্বারা বাঁধা। আমিই রশি থেকে তাকে মুক্ত করি।
এ ঘটনায় কথা হলে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ফরহাদ গং গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে বলেন, আসলে সুফিয়া বেগমের সাথে আমাদের জমি নিয়ে দ্বন্দ চলছে। তাই আমাদের ফাঁসাতে ওনি মিথ্যা বলছেন।
সিংগাইর থানার নবাগত ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমকে থানায় পাঠিয়ে দিবেন। তার মৌখিক বর্ণনা শুনে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।













