পটুয়াখালীর দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলায় বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎই দেখা গেছে ভিন্নধর্মী এক চিত্র। উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর দলেরই একাংশ নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্যে মিষ্টি বিতরণের মধ্যদিয়ে আনন্দ উদযাপনের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতের দিকে গলাচিপা পৌরশহরের ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত খুলনা দুইঘর মিষ্টির দোকানের সামনে জড়ো হয়ে মিষ্টি বিতরণ করেন ওই নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের উচ্ছ্বাস ও স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
উল্লাসে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কাঠামোর কারণে তারা নিজেদের অবস্থান প্রকাশ্যে তুলে ধরতে পারেননি। কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় সেই বাধা এখন আর নেই। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য নতুনভাবে মাঠে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
তারা আরও জানান, বর্তমানে তারা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে নির্ভয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। কমিটি না থাকায় দলীয় কোনো চাপ বা সাংগঠনিক জটিলতা আর তাদের আটকে রাখতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে বিএনপির প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূরকে সমর্থন দিলেও স্থানীয় পর্যায়ে দলের একটি অংশ সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ ছিল। তারা শুরু থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নেন।
এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ও স্থগিতের ঘোষণা আসে। ঘোষণার পরপরই যারা এতদিন প্রকাশ্যে আসতে পারেননি, তারাই মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমাদের নেতা বহিষ্কৃত হয়েছেন, কমিটিও বিলুপ্ত হয়েছে এই বাস্তবতা মেনেই আমরা খুশি। সিদ্ধান্ত আসতে দেরি হয়েছে, তবে এখন আর কোনো দ্বিধা নেই। আমরা হাসান মামুনের পক্ষেই মাঠে থাকব।” (১৮/০১/২০২৬)











