ফরিদপুর/রাজবাড়ী ফরিদপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল এবং রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ও গোয়ালন্দের চরাঞ্চলগুলোতে অবৈধ বালু উত্তোলনের একটি সংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি “অঘোষিত সাম্রাজ্য” প্রতিষ্ঠা করেছেন আলম শেখ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আলম শেখের অনুসারীরা ড্রেজার বসিয়ে সকাল থেকে দীর্ঘ ঘণ্টা ধরে বালু উত্তোলন করছেন।
প্রশাসনের অক্ষমতা ও স্থানীয় আতঙ্ক
স্থানীয় সাংবাদিক এবং সচেতন নাগরিকরা জানান, চরাঞ্চলে প্রবেশের জন্য আলম শেখের অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি না নিলে প্রাণহানির ভয় থাকে। প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও, এ অঞ্চলে নজরদারি কার্যকর নয়। ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক উভয়ই জানিয়েছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশনা আছে, কিন্তু বাস্তবে অবস্থা ভিন্ন।
ফরিদপুর জেলা নৌ পুলিশ সুপার জানান, এ বিষয়ে তারা পুরোপুরি অবগত নন। তবে যদি কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে, কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা মনে করেন, প্রশাসনের এই ধীর প্রতিক্রিয়া এবং সমন্বয়ের অভাবই বালু চোরাচালানের সম্ভাবনাকে জোরদার করছে।
অপরাধের সংগঠন ও সশস্ত্র পাহারাদার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ড্রেজারের আশেপাশে কয়েকজন সশস্ত্র পাহারাদার অবস্থান করছেন। স্থানীয়রা তাদের আলম বাহিনীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা নৌপথ এবং চরাঞ্চলের পুরো পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করছেন। এটি শুধু পরিবেশগত ধ্বংস নয়, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে আতঙ্কিত করছে।
পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব:নদীপাড়ের ক্ষতি অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে চরাঞ্চলের নদীর তলা অন্ধভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা: সশস্ত্র পাহারাদারের উপস্থিতি এবং নিযুক্তির কারণে স্থানীয়রা চরাঞ্চলে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলার সংকট: স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা এবং সমন্বয়ের অভাব বালু চোরাচালানকে আরও শক্তিশালী করেছে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুসন্ধানীরা সরেজমিনে নিশ্চিত করেছেন। এটি প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জনগণের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
উপসংহারঃ ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর চরাঞ্চলে বালু মাফিয়ার এই অঘোষিত সাম্রাজ্য শুধু পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং স্থানীয় সমাজে সশস্ত্র সন্ত্রাসের সৃষ্টি করছে। প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান কঠিন। বিশেষভাবে, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ কার্যক্রম চলতে থাকলে, এটি একটি সংগঠিত অপরাধে পরিণত হবে।











