সর্বশেষ

যমুনার তিন জেলার নদীর চরাঞ্চল অবৈধ বালু মাফিয়া আলম শেখের নিয়ন্ত্রণে

মোঃ মাইনুল ইসলাম

নদী প্রবাহমান দক্ষিণাঞ্চলের তিন জেলার সমন্বয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল,রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ও গোয়ালন্দ এবং মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার চর বাঘুটিয়া এলাকায় হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের সরেজমিন অনুসন্ধানে জানাযায়, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অন্তত দুটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ওইসব এলাকায় কার্যত অঘোষিত সাম্রাজ্য” এখনো অব্যাহত রেখেছেন।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে,ফরিদপুর ও রাজবাড়ী অঞ্চলে আলম শেখ ও মানিকগঞ্জের চর বাঘুটিয়া এলাকায় মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্স এবং তার অনুসারীরা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে চরণচলের স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। চরাঞ্চলবাসী জানান,হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রকাশ্য ড্রেজিং এবং সরেজমিনে ফরিদপুর,রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জের একাধিক চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়,মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নদীতে ভারী কাটার ড্রেজার বসিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আরও অভিযোগ রয়েছে,দৌলতপুর উপজেলার চর বাঘুটিয়া এলাকায় সশস্ত্র পাহারার মধ্যেই চলছে এই কার্যক্রম।

শিবালয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ বালু উত্তোলন: জাতীয় গ্রিডের টাওয়ারসহ ঝুঁকিতে নদীতীর ও জনবসতি

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, এসব চরাঞ্চলে প্রবেশের আগে সংশ্লিষ্ট চক্রের অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে প্রাণনাশের হুমকির আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি ও একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এসব এলাকায় কার্যকর প্রশাসনিক নজরদারি দৃশ্যমান নয়।

ফরিদপুর,রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা থাকার কথা জানানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি স্থানীয়দের। ফরিদপুর জেলা নৌ পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন,বিষয়টি সম্পর্কে তারা পূর্ণাঙ্গভাবে অবগত নন। তবে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সশস্ত্র পাহারা,আতঙ্কিত জনজীবন:অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ড্রেজারের আশপাশে একাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে। ভুক্তভোগী স্থানীয়দের দাবি,তারা সংশ্লিষ্ট বালু উত্তোলন চক্রের সদস্য ও নৌপথ এবং চরাঞ্চলের চলাচল কার্যত সশস্ত্র ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে। এতে করে পরিবেশ নয়,স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশ ও সামাজিক বিপর্যয়:অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে—নদীর তলদেশ ও চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।

বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে পড়ে কলেজের হিসাবরক্ষকের মৃত্যু

স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ছে,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে
আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রকাশ্যে অমান্য করাসহ কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক ধীরগতি এবং সমন্বয়ের অভাবই অবৈধ বালু চোরাচালানকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করে তুলছে।

উপসংহার:ফরিদপুর,রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জের চরাঞ্চলে গড়ে ওঠা এই সক্রিয় বালু মাফিয়ার অঘোষিত সাম্রাজ্য শুধু পরিবেশগত ধ্বংস নয়, বরং সশস্ত্র সন্ত্রাস ও সংগঠিত অপরাধের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে। দ্রুত কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ এবং সমন্বিত অভিযান ছাড়া এই প্রতিকূল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে বলে মনে করছেন নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দারা ও সচেতন মহল।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২৬ জানুয়ারি ২০২৬
Trulli

যমুনার তিন জেলার নদীর চরাঞ্চল অবৈধ বালু মাফিয়া আলম শেখের নিয়ন্ত্রণে