দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর বাঘুটিয়ায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তলনের ঘটনায় স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ;সরকারি কর্মকর্তাদের অপেশাদারি আচরণ ও দায়িত্বহীনতা প্রকাশ্যে।
মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর বাঘুটিয়া এলাকায় অবৈধ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তলন চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলেও কার্যকরী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রশাসনের সঙ্গে বালুমাফিয়া চক্রের সরাসরি সম্পর্কের কারণে অভিযান প্রায়শই বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী তাদের বসতভিটা রক্ষার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত (২৫ ডিসেম্বর, ২০২৬ইং) রোজ রবিবার গনমাধ্যমের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসিল্যান্ড আহসানুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর কাছে “প্রথমবার”এসেছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লোক পাঠানো হচ্ছে। তবে বিকেল ৪টার সময় স্থানীয়রা জানান,ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান ছিল। পুনরায় সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে, জনাব আহসানুল আলম রূঢ় ও অপেশাদারি আচরণ প্রদর্শন করেন, যা সরকারি দায়িত্ব পালনে অগ্রহণযোগ্য। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) জনাবা নাজমুন আরা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান,অবৈধ বালু উত্তলন কোনোভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের অসদাচরণের বিষয়টি তদন্তাধীন থাকবে।”
আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, অবৈধ বালু উত্তলন বাংলাদেশের বন ও নদী রক্ষা আইন, নদী ও খাল সংরক্ষণ বিধিমালা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের,শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্পদ বাজেয়াপ্তিসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে একটি জোরালো বার্তা দিয়েছে। স্থানীয় জনগণের বসতভিটা রক্ষা এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ এখন সময়োপযোগী। আইনি বিশ্লেষণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ: অবৈধ বালু উত্তলন নদী ও পরিবেশ আইন অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ।
বন ও নদী রক্ষা আইনের ৩১/৩৫ ধারায় দায়ী ব্যক্তিদের জরিমানা, কারাদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্তি করা যায়। স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।কর্মকর্তা কর্তব্যে অবহেলা করলে দায়িত্বহীনতার জন্য আইনগত জবাবদিহি আনা সম্ভব।











