সর্বশেষ

দৌলতপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন নেপথ্যে মাফিয়া প্রিন্স বাহিনী: প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার

মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর বাঘুটিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বালু মাফিয়া হিসেবে পরিচিত ক্ষাত মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সশস্ত্র পাহারায় এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং বহু পরিবারের বসতভিটা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে বারবার উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের সঙ্গে বালু মাফিয়া চক্রের যোগসাজশ থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অভিযান প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নিরুপায় গ্রামবাসী নিজেদের ঘরবাড়ি রক্ষায় মানববন্ধনসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকর্মীদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধ ড্রেজিংয়ের সত্যতা পায়। এ সময় তারা দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহসানুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি তার কাছে “প্রথমবার” এসেছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে লোক পাঠানো হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ,বিকেল ৪টা পর্যন্তও ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। পুনরায় যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রূঢ় ও অপেশাদারি আচরণ প্রদর্শন করেন, যা একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জনগণের কল্যাণ সাধন সরকারের মূল লক্ষ্য : মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি)

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমুন আরা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান,
“অবৈধ বালু উত্তোলন কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”আইনগত দিক ও অপরাধের মাত্রা আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বাংলাদেশের বিদ্যমান একাধিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

বিশেষ করে—বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ নদী ও খাল সংরক্ষণ বিধিমালা
বন ও নদী রক্ষা আইন,এই আইনগুলোর আওতায় অবৈধ বালু উত্তোলন একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। বন ও নদী রক্ষা আইনের ৩১ ও ৩৫ ধারায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধ করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া স্থানীয় প্রশাসনের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ও আইনগত জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব।

ঝালকাঠিস্থ জবিয়ান ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী

উপসংহার:চর বাঘুটিয়ার সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে। স্থানীয় জনগণের বসতভিটা রক্ষা এবং দেশের নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে এখনই দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

    Opps, No posts were found.

সর্বশেষ

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
Trulli

দৌলতপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন নেপথ্যে মাফিয়া প্রিন্স বাহিনী: প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ