মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের (১ ফেব্রুয়ারি রবিবার) সরজমিনে দেখা যায়,যমুনা নদীতে অবস্থিত জাতীয় গ্রিডের পিলার সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ও ভয়াবহভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ বালু মাফিয়া চক্র। সশস্ত্র পাহারায় পরিচালিত এই অবৈধ কার্যক্রমে জাতীয় গ্রিডের পিলার ও সঞ্চালন লাইন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার চিহ্নিত বালু মাফিয়া চক্রের মূল হোতা মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের লোকজনই এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা কোনো ধরনের আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার একেবারে নিকটবর্তী এলাকা থেকে ভারী ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় গ্রিড রাষ্ট্রের একটি কী (Key) অবকাঠামো। এর আশপাশে এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালু উত্তোলনের ওপর মহামান্য হাইকোর্টের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া এবং নিষিদ্ধ এলাকায় বালু উত্তোলন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু এসব আইনি বিধিনিষেধকে প্রকাশ্যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বালু মাফিয়া চক্রটি।
জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইন ও পিলারের কাছ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্রীমতি মণিষা রানী কর্মকার-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় গ্রিডের আশপাশে অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে তেওতা এলাকায় জাতীয় গ্রিডের একাধিক পিলার ইতোমধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় কয়েক শতাধিক বসতবাড়ি যেকোনো সময় যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় গ্রিডের পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু স্থানীয় নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালনে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তাই অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও বালু মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।











