টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের কুকুরিয়া পূর্বপাড়ায় রহমান মাস্টারের ছেলে মাহফুজের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা জমজমাট আকার ধারণ করেছে। এলাকায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। ইয়াবা, গাঁজা কিংবা ট্যাপেন্টাডল—টাকা দিলেই পাওয়া যাচ্ছে সবকিছু।
গত ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশ অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার সুযোগ নিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। তবে টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশের মাঝে মাঝে মাদকবিরোধী অভিযানে ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে অধরাই। এতে সচেতন সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহফুজের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল দীর্ঘদিন ধরে মাদক সরবরাহ করে আসছে। এলাকায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত চলছে মাদকের ব্যবসা। এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া উঠতি বয়সী তরুণ-যুবকদের নাম যুক্ত হচ্ছে মাদকসেবীদের তালিকায়। এতে মাদক ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলছে কালো টাকার পাহাড়। এতে অভিভাবকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
আরও জানা যায়, মূলত সন্ধ্যার পর থেকেই মাদক বিক্রি শুরু হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর অনেকে কৌশল পরিবর্তন করেছে। তারা মোবাইল ফোনে অর্ডার নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে মাদক রেখে যায় এবং পরে ক্রেতাকে ফোনে সেই স্থানের তথ্য দেয়। আবার নতুন ব্যবসায়ীরা এখনো ‘হ্যান্ড টু হ্যান্ড’ পদ্ধতিতে মাদক বিক্রি করছে। তবে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছেই তারা মাদক বিক্রি করতে আগ্রহী।

মাহমুদনগর ইউনিয়নের কুকুরিয়া পূর্বপাড়া নদীর পাড়, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন নির্জন স্থানে মাদক কেনাবেচা চলছে। এছাড়া উঠতি বয়সী স্কুল-কলেজ পড়ুয়া যুবকেরা দলবেঁধে নির্দিষ্ট স্থানে গাঁজা সেবনের আসর বসাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “মাদকের ছোবলে যুবসমাজ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।” তিনি প্রশাসনের কাছে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

গত ২৪ মার্চ ভোরে মাহমুদনগর ইউনিয়নের ভিডিপি কমান্ডার গফুর মোল্লার নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি অভিযুক্তদের বাড়ি ঘেরাও করে। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ূন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালান। পরে স্থানীয়দের গণস্বাক্ষরের ভিত্তিতে মাহফুজকে আটক করে পুলিশ গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় শতাধিক নারী মাদক ব্যবসায়ীর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
এক পর্যায়ে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা ও ছাত্রদলের সেক্রেটারি পরিচয়দানকারী আব্দুল আলীমের জিম্মায় শর্তসাপেক্ষে মাহফুজকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এর আগেও এলাকাবাসী বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিক্রির ২৯ হাজার টাকাসহ মাহফুজকে আটক করে। কিন্তু থানায় সোপর্দের চেষ্টা করলে এক পুলিশ সদস্য তাকে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং তারা বিক্ষোভ মিছিল করে।
উল্লেখ্য, মাদক ব্যবসা ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এর এক নেতা গত বছরের ১৩ নভেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের আইজিপি কমপ্লেইন সেল ও ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের জেরে মাহফুজের নেতৃত্বে একদল কিশোর গ্যাং দিয়ে সাংবাদিক লতিফের ভাই মহসিনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামানের সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পান।
অভিযুক্ত, মাফুজ প্রতিবেদককে বলেন, আমি এক বছর আগে বিভিন্ন জাইগায় ইয়াবা সাফলাই করতাম। লাভলু ভাই বিচার করার পর থেকে এখন আমি ইয়াবা সাফলাই করিনা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, “মাদক উদ্ধারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের শেষ ঠিকানা হবে জেলখানা।”













