সর্বশেষ

শিবালয় যমুনার ভাঙ্গনের মুখে চর-কালিকাপুর শুকরিয়া দাখিল মাদ্রাসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে চরম হুমকির মুখে পড়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চর কালিকাপুর শুকরিয়া দাখিল মাদ্রাসা। স্থানীয়দের দাবি,নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে লাগাতার বালু উত্তোলনের ফলে ভয়াবহ নদীভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন ইতোমধ্যে মাদ্রাসা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরত্বে পৌঁছে গেছে। তারা আশঙ্কা করছে,দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যে কোনো সময় যমুনার ভয়াল গ্রাসে বিলীন হয়ে যেতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। রোববার(১২ জুলাই)সরেজমিনে চর কালিকাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। যমুনা নদীতে অন্তত পাঁচটি শক্তিশালী সেকশন কাটার ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্র সক্রিয় থেকে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন,ওই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন আব্দুর রশিদ ও তাঁর সশস্ত্র সহযোগীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য,ক্ষমতার পালাবদল হলেও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তারা অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরোও জানান,অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে যমুনা নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীব্র আকার ধারণ করে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে শুধু চর কালিকাপুর শুকরিয়া দাখিল মাদ্রাসাই নয়, আশপাশের বসতভিটা, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ,অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে তারা একাধিকবার মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ, স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

পাবনা সদর থানার এসআই মাহবুব রাজশাহী রেঞ্জের ‘শ্রেষ্ঠ অস্ত্র উদ্ধারকারী অফিসার’ নির্বাচিত

কিন্তু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অভিযান ছাড়া কার্যকর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে জানান তারা। সরেজমিন তথ্য ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী,অবৈধ বালু উত্তোলনের এ কার্যক্রম বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০-এর সরাসরি বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেও জানান এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার বক্তব্য জানতে তাঁর সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের Assistant Commissioner (Confidential) ফোন রিসিভ করে জানান, জেলা প্রশাসক জরুরি সভায় রয়েছেন। তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করার আশ্বাস দিলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ,জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চর কালিকাপুর শুকরিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও আশপাশের জনপদ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নদী তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণের দাবি তাদের। যদি প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙ্গন রক্ষাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল যমুনার ভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে যাবে বিস্তীর্ণ এলাকা ফসলের জমি বসতবাড়ি সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

পাচারের সময় চুয়াডাঙ্গায় ১ কোটি টাকার স্বর্ণসহ চোরাকারবারি আটক

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১২ জুলাই ২০২৬
Trulli

শিবালয় যমুনার ভাঙ্গনের মুখে চর-কালিকাপুর শুকরিয়া দাখিল মাদ্রাসা