জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতাসহ সরকারের কিছু পদক্ষেপ এবং মৌলিক মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সাত ডেপুটি ও ১১ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। খবর বিবিসি বাংলা।
পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিন সহকারী আইন কর্মকর্তা এবং জুলাই সনদসহ একই কারণ দেখিয়ে বাকি ১৫ জন পদত্যাগ করেছেন।
তিনি বলেন, আমি দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখছি, তারা পদত্যাগপত্রে যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সেটি একটি রাজনৈতিক দল এবং তারা যে রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেন- সেই দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা। এ কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিরপেক্ষতা, সততা, দেশপ্রেম এবং দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি তাদের নিষ্ঠাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। সেইসঙ্গে পদত্যাগ করা ১৮ আইন কর্মকর্তারই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন বলছে, পদত্যাগ করাদের একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি তার পদত্যাগপত্রে বলেছেন, সতর্ক বিবেচনার পর, আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি, বর্তমান সরকারের কিছু সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং অবস্থানের বিষয়ে মৌলিক মতপার্থক্যের কারণে আমি আর এ পদে বহাল থাকতে পারছি না।
তিনি উল্লেখ করেছেন, জনগণের দ্বারা ব্যক্ত ম্যান্ডেট বা রায় এবং আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিচার বিভাগের জন্য একটি সমানভাবে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের বিরোধিতা এবং বিচারিক স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে সরকারের অবস্থানের কারণেও আমি সমানভাবে উদ্বিগ্ন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে, বিবেকের কাছে পরিষ্কার থেকে পদের দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে নিজেকে অক্ষম মনে করে ডিএজি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি একইসঙ্গে পদত্যাগপত্র অবিলম্বে কার্যকর করার মাধ্যমে গ্রহণ করার কথাও উল্লেখ করেছেন।












