প্রকৃতির বুক চিরে সবুজ রক্ষা করার দায়িত্ব যাদের, তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে চলছিল সরকারি বনের গাছ কাটার আয়োজন। তবে শেষ পর্যন্ত বন বিভাগের তৎপরতায় সেই চক্রের চার সদস্য ধরা পড়েছে।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চরহায়দার ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন আলগার চরে অভিযান চালিয়ে গাছ কাটার সময় চারজনকে গ্রেফতার করেছে উপজেলা বন বিভাগ। এ সময় গাছ কাটার সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে আলগার চরের বনে একদল অসাধু ব্যক্তি গাছ কাটছে এমন গোপন সংবাদ পান বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা রওশন হাসান। পরে বিষয়টি উপজেলা বন কর্মকর্তাকে জানানো হলে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে গাছ কাটার সময় চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে করাত, কুঠার, দা ও মোটা দড়ি উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগের দাবি, ঘটনাস্থলে প্রায় দুই শতাধিক ছোট-বড় গাছ কাটা অবস্থায় পড়ে ছিল।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—দশমিনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাটাখালী গ্রামের আমির মুন্সির ছেলে মো. হারুন মুন্সি, আলী আশরাফের ছেলে মো. মোহসিন মৃধা, শরিফ মোল্লার ছেলে মো. উব্রাহিম মোল্লা এবং একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড হাজির হাট গ্রামের মৃত আলম বিশ্বাসের ছেলে মো. মনির বিশ্বাস।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি বন উজাড় করে কাঠ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বন রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
চরহায়দার ফরেস্ট ক্যাম্পের বিট কর্মকর্তা রওশন হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাছ কাটার সময় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বন সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, “বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে পুলিশ সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরকারি বন রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় বন সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সরকারি বন রক্ষায় বন বিভাগের এই অভিযানকে স্থানীয়রা স্বাগত জানালেও, দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। (০২/০৮/২০২৬)














