কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গোল্ডেন লাইফ একাডেমির মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে ব্যাংক হিসাবের তথ্য পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা, প্রধান শিক্ষককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সোনালী ব্যাংকের রাজীবপুর শাখা ও রাজিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. ইসমাইল হোসেন যৌথভাবে গোল্ডেন লাইফ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটি পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর সোনালী ব্যাংক রাজিবপুর শাখায় প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়।
প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, তাঁর অজ্ঞাতসারে ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি পরিবর্তন করে ইসমাইল হোসেন হিসাবটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানের অর্থ তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং তা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন শফিকুল ইসলাম। তবে এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের রাজিবপুর শাখার কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজিবপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের প্রভাষক ইসমাইল হোসেন গোল্ডেন লাইফ একাডেমির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ জন্য শফিকুল ইসলামকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী রোকসানা বেগমকে ওই পদে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে বিভিন্নভাবে মানসিক হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন শফিকুল ইসলাম।
শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিনি গোল্ডেন লাইফ একাডেমিতে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন। এ সময় ইসমাইল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রোকসানা বেগম লাঠিসোঁটাসহ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে তিনি আহত হন। পরে রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
হামলার সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের জেরে তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দিতে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে স্মারক নম্বর উমাশিঅ/রাজিব/কুড়ি/২০২৬/২১৯-এর মাধ্যমে তদন্তসংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করা হয়। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. গোলাম কিবরিয়া স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ এবং একই সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগ তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণসহ উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, “গোল্ডেন লাইফ একাডেমি একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শফিকুল ইসলাম নামের এক শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চলছিল। এরই মধ্যে তাঁরা আপসের কথা জানিয়েছেন। আপসের উদ্যোগের কারণে তদন্ত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। আগামী সোমবার বিকেল ৩টায় রাজিবপুর থানায় এ বিষয়ে আপস-মীমাংসার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে আমাকে মুঠোফোনে জানানো হয়েছে।”
অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে সরাসরি কথা বলবেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
প্রতিষ্ঠানের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়া, ব্যাংক হিসাবের অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম।
















