কুড়িগ্রামের রৌমারীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর পচাঁ চাউলের প্রমান মিলল খাদ্য গুদামে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে পচাঁ চাল ভর্তি কাকড়া গাড়ি ২টি রৌমারী খাদ্য গুদামের সামন বেড় হওয়ার সময় আটক করে জনতা।
স্থানীয় ও ডিলার সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের আনন্দ বাজার কেন্দ্রের ডিলার মনির হোসেন সরকারি আদেশ (জিও লেটার) অনুযায়ী যাতায়াতের সুবিধার্থে উলিপুরের পরিবর্তে রৌমারী খাদ্য গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কার্ডধারী ৫৩৩ জনের বিপরীতে প্রায় ১৬ মে.টন চাল উত্তোলন করেন।
এসময় ডিলার মনির হোসেন পচাঁ চাউলের বস্তা গুলো খাওয়ার অনুপযোগী বলে প্রতিবাদ করলে খাদ্য কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ বলেন, এবারের জন্য চালিয়ে যান। নিরুপায় হয়ে তিনি ২ টি কাকড়া গাড়ি বোঝাই চাউল নিয়ে যাওয়ার পথে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খাদ্য গুদামের গেটের সামনে স্থানীয় জনতা গাড়ি ২টি হাতে নাতে আটক করে।
এ খবরটি মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ন আহŸায়ক রাজু আহমেদ, মঞ্জুরুল ইসলাম, আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহŸায়ক মশিউর রহমান পলামসহ জামায়াতী ইসলামের বিভিন্ন স্থরের নেতাকর্মীগন জড় হন। এসময় বস্তায় পচাঁ ও খাবার অনুপযোগী চাউল দেখতে পায় তারা। পরে বিষয়টি মুঠো ফোনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককসহ বিভিন্ন জানানো হয়। এ এক পর্যায়ে উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষের আদেশ ক্রমে চাউল বোঝাই গাড়ি ২টি উপজেলা পরিষদ চত্তরের ভেতরে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়।
এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা সেই পচাঁ চাউলের নায়ক শহিদুল্লাহর সুষ্ঠ তদন্তের সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী জানান। অপরদিকে পচাঁ চাউল কেলেংকারির ঘটনার নায়ক খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নানান প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এনিয়ে চলছে টানাহেচড়া। উল্লেখ্য যে, বহুল আলোচিত, বিতর্কিত, ঘুষবানিজ্য, অর্থ আত্মসাতকারী, জালিয়াতির কারিগড় ও একাধীক মামলার আসামী খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ –রৌমারী খাদ্য গুদামে কর্মকর্তার দায়িত্বভার গ্রহন করেন। দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে তিনি খাদ্য গুদামের বিভিন্ন খাদ মিলার, ডিলার ও ঠিকাদারের কাছ থেকে নানা অজু হাতে প্রায় কোটি টাকা হাতয়ে নিয়েছেন।
এছাড়াও সেচ্ছাচারিতা ও অসৌজন্যমূলক আচরনসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অপকর্মের চিত্র তুলে ধরে ৩৪ জন মিলার, ১৯ জন ঠিকাদার, কয়েকজন কৃষক, ২ জন ব্যবসায়ী পৃথক পৃথক ভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন, মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চাতাল মালিক নাসির উদ্দিন লাল ও ব্যবসায়ী নাহিদ হোসেন বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম কোর্টে ২ বিচারাধীন রয়েছে। এনিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক, স্থানীয় ও ইলেক্ট্রনিক্ধসঢ়;্র মিডিয়ায় ঢালাও ভাবে প্রচার করা হয়। প্রসঙ্গতঃ রৌমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৪৪ টি ডিলারের আওতায় ২০ হাজার ২০২ জন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর কার্ডধারীর বিপরিতে ৬শত ৬ মে.টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে প্রতিটি কার্ডের বিপরিতে ৩০ কেজি চাউল পাওয়ার কথা রয়েছে। চলতি মাসে চাউল গুলি রৌমারী খাদ্য গুদাম থেকে ডিলাররা উত্তোলন পুর্বক কেন্দ্রে নিয়ে বিতরণ কালিন সময়ে দেখতে পায় প্রায় কেন্দ্রে পচাঁ নি¤œমান ও খাওয়ার অনুপযোগী হওয়ায় কার্ডধারীরা অভিযোগ করলে প্রশাসনের নজরে আসে। এনিয়ে গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল কুমার হালদার খাদ্য গুদামসহ শৌলমারী ইউনিয়নের ৩টি ডিলার পয়েন্টে অভিযান চালান। এসময় ডিলারদের কাছে নি¤œমানের ও খাওয়ার অনুপযোগী চাউল ও অজনে কম দেখতে পান। পরে ঘটনা স্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পর রৌমারী বাজারে ময়নাল হক নামের এক ব্যবসায়ীর ২টি গুদাম সিলগালা করেন। এবং ৩সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।
অথচ বৃহস্পতিবার কাকড়া ২টি জনতার হাতে আটকের পর অজনে কম, মানে খারাপ চালসহ এ ঘটনার নায়কের চিত্র উম্মচোন হলো। উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এ রৌমারীতে অনিয়ম দুর্নীতি করে যাচ্ছে। আমি এতোদিন শুধু শুনে গেছি। আজ হাতে নাতে ধরে দেখতে পেলাম খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ একজন দুর্নীতিবাজ। তার এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিকট তদন্ত পুর্বক আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহন করা হউক।
রৌমারী ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা শহিদুল্লাহর সাথে মুঠো ফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু হাসনাত মোহাম্ম মিজানুর রহমান বলেন, আমার অজান্তে যোগদানের পর থেকে এমন ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাকে বদলি হয়েছেন। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল কুমার হালদার বলেন, আমি একাধীকবার তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে পাশ কাটিয়ে যান। বিষয়টি উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।











