ঢাকার উত্তরা আজিমপুর থেকে বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তার সন্তানকে নিয়ে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের একটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয় অটো রিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে। এতে রিক্সায় থাকা তার সন্তানের একটি হাত ভেঙে যায় এবং সাইফুল ইসলাম ও অনেকটা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছে।
এটি হলো একটি ঘটনা এরকম প্রতিনিয়ত সারা দেশে অবৈধ অটো রিক্সার করে যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে যাত্রীরা। এগুলোর একমাত্র কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে সড়কে চলাচল করার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা চোখে পড়ে সবার।
এখন নগরীর সড়কগুলোতে ভয়ংকর এক দানবের নাম অটো রিক্সা। এদের বেপরোয়া চলাচলের কারণে সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে অন্যান্য যানবাহন সঠিকভাবে চলাচল করতে পারেনা নগরীতে। এই চিত্র সারা দেশের। দেশের মহানগর এলাকাগুলোতে সময় অটো রিক্সা গুলো অলিতে গলিতে চলাচল করতো কিন্তু জুলাই আগস্ট বিপ্লব পরবর্তী সময়ে অবৈধ এসব ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নগরীর প্রধান প্রধান স্বরূপ গুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকা অদক্ষ চালকদের হাতে এসব অবৈধ অটোরিকশা চলাচল করার কারণে নিয়ম-নীতির বাইরে চলে গেছে অটো রিক্সা চলাচল।
ট্রাফিক বিভাগ হাজারো চেষ্টা করেও এদের দৌরাত্ম বন্ধ করতে সক্ষম হচ্ছে না। মাঝে মাঝে ট্রাফিক বিভাগ শক্ত অভিযান পরিচালনা করে শত শত অবৈধ অটোরিকশা আটক করলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। এতে সড়কে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ ভয়াবহ দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় এবং সড়কে ঝরে যায় অনেকের প্রাণ। এতে অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা সময় বাঁচাতে গিয়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে দেখা গেছে অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সামান্য সময় বাঁচাতে গিয়ে নিজেদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছি আমরা। এখনই সচেতন হয়ে তো রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ সহ সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অনেক প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম কক্সবাজার সিলেট রাজশাহী খুলনা নারায়ণগঞ্জ গাজীপুর ময়মনসিংহ সহ আরো কয়েকটি জেলায় এসব অবৈধ অটো রিক্সা বেপরোয়াভাবে চলাচল করতে দেখা যায়। ট্রাফিক সংকেত না মেনে নগরীর প্রধান সড়ক গুলোতে এসব অবৈধ অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এদেরকে নিয়ন্ত্রণে এনে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকার ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে গত এক বছর ধরে অবৈধ ব্যাটারি চালিত এসব অটোরিকশা প্রধান সড়ক গুলোতে চলাচল করার সুযোগ পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে গেছে। ট্রাফিক পুলিশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও অদৃশ্য কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না যদিও এসব অবৈধ অটো রিক্সা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার জরুরি প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে এক শ্রেণীর রাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের হাতে এর নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় সঠিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেনা প্রশাসন।











